ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

0
20

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় চলছে। এমন ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত, শঙ্কিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। মানিকের ধর্ষণে সেঞ্চুরি করার দাবির পরও তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। এছাড়া ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকবার। বারবার এমন অভিযোগ উঠলেও নির্বিকার থেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মূলত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব নেতা-কর্মী। এমতাবস্থায় দিন দিন যেন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে স্বামীকে আটকে রেখে হল-সংলগ্ন জঙ্গলে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা। সে তার বহিরাগত বন্ধু মামুনুর রশীদকে দিয়ে কৌশলে ওই দম্পতিকে ক্যাম্পাসে ডেকে আনে। এরপর মোস্তাফিজের সহযোগী তিন শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং মোস্তাফিজ ও মামুন তার স্ত্রীকে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ছয়জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে সারাদেশে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। তারা আবারো গণমাধ্যমে শিরোনামে উঠে আসে। ওপর মহলও নড়েচড়ে বসে। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এত এত অভিযোগ, তবু এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো ভাবান্তর নেই। যেন তারা যা করছে, যা করেছে সবই ঠিক করছে। অভিযোগ উঠছে, নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংসদ। যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং সংগঠনে আদর্শ ও নৈতিকতার চর্চা না থাকায় একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এদের লাগাম টানবে কে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, জ্ঞান চর্চাকেন্দ্র। এখান থেকেই জ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীরা জীবনমুখী ও নৈতিক শিক্ষা পায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই যখন ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে, তখন আমরা অবাক হই। ক্ষুব্ধ হই। সরকারের অনেক ইতিবাচক অর্জন ও সাফল্যকে মøান করে দিচ্ছে এই অপদার্থদের দুষ্কর্ম। এটা ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা বুঝেন না, তা নিশ্চয়ই নয়। আওয়ামী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এসব অপকর্মের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়ার কথা বলা হচ্ছে বারবার। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনো প্রতিফলন নেই। এখনো সময় আছে ওদের লাগাম টেনে ধরার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণের ঘটনায় সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনুক।