সৈকত হোসেন
ইফতারে জনপ্রিয় রসালো ফল তরমুজ। যশোরের খুচরা বাজারে এই ফলের দাম এখন প্রতিকেজি ৭০/৮০ টাকা। যা অন্যান্য বছরে এ সময়ে ৪০-৪৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। আর ভরা মৌসুমে দাম ২০/২৫ টাকার মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, এখন রোজার কারণে তরমুজের দাম অস্বাভাবিক। তারপরও বাজারে যে তরমুজ মিলছে, তার বেশিরভাগ অপরিপক্ব। কাটার পর ভেতরে লাল রং ধারণ করলেও এখনো তেমন মিষ্টতা আসেনি। তরমুচের ভেতরের লাল রং নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ফলে এসব অপরিপক্ব তরমুজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এখন মোকামে তরমুজের সরবরাহ কম, দাম বেশি। এখনো মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায়, কয়রার তরমুজ আসছে না। দড়াটানার একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, গত বছর এসময় ১০০ তরমুজ ১০-১২ হাজার টাকা করে আড়ত থেকে কেনা গেছে। আর এবার দ্বিগুণ দাম। তারপরও রোজার আগের দিন পাওয়া যায়নি। সে কারণে অস্বাভাবিক দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তিনি জানান, গত তিন চারদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে। শুরুতে ১০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। যা কমে ৫০ টাকা কেজিতে গিয়ে ঠেকে। কিন্তু রমজান উপলক্ষে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরায় ৭০/৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। রমজানের দুই দিন আগেও তিনি ৬০ টাকায় তরমুজ বিক্রি করেছেন। আরেক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দামের কারণে দোকানে তরমুজ তুলতে পারছি না। আড়তে তরমুজের এক দাম। কোনো নড়চড় নেই। এখন বাজারে যে তরমুজগুলো দেখা যাচ্ছে, তা আকারে ছোট, তিন কেজির মধ্যে বেশি। বড় তরমুজ নেই বললেই চলে। এসব তরমুজের বেশির ভাগই অপরিপক্ব। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে তরমুজের আবাদ শুরু হয়। ফল উঠে এপ্রিলে। এরপর মে মাসজুড়ে মাঠে তরমুজ থাকে। এটি ভরা মৌসুম। পরিপক্ব তরমুজ উঠতে উঠতে চৈত্র মাস বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ হয়। পাইকারি ফল বিক্রেতারা আরও বলেন, পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। তাই আগেই তরমুজ বাজারে এসেছে। কারণ রোজাদাররা টাকা বেশি দিয়ে হলেও একটু ফল মুখে দিতে চান। ইফতারে নতুন নতুন ফল রাখতে চান। সঙ্গে আবার গরমও পড়তে শুরু করেছে। সব মিলে তরমুজের বাম্পার চাহিদা। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ নেই। এখন শুধু যারা আগে আবাদ করেছিলেন, তারা আগে তরমুজ তুলতে পারছেন। আবার বাড়তি লাভের আশায় অনেকে অপরিপক্ব বিক্রি করে দিচ্ছেন। আসলে কয়েক দিন পর যেসব তরমুজ আসবে, সেগুলো পরিপক্ব হবে।

