২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

‘পুরস্কারের জন্য আমাকে কোনো আবেদন করতে হয়নি’

প্রতিদিনের ডেস্ক
কিংবদন্তি গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বলেন, খুবই ভালো লাগছে। বিষয়টি প্রথমে টিভিতে স্ক্রল দেখে ফোন করে একজন জানালেন আমি স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছি। এরপর অনেকেই ফোন করে শুভকামনা জানাচ্ছেন। ফেসবুকেও অনেক মানুষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, একটা কারণে আমার খুশিটা বেশি। সেটা হচ্ছে পুরস্কারের জন্য আমাকে কোনো আবেদন করতে হয়নি। কাউকে দিয়ে সুপারিশও কখনো করাইনি।
কে আবেদন করেছে তা-ও আমি জানি না। এই কারণেই আমার খুশিটা বেশি। সবাই দোয়া করবেন যেন এভাবেই বাকি জীবনটা পার করতে পারি। ১৯৪৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি গানের এই কবি জন্মগ্রহণ করেন ঝিনাইদহে। তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলার খড়কীতে। রফিকউজ্জামান শুধু গীতিকবিই নন, শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতাও। পরিচালনা করেছেন ‘জন্মদাতা’ নামের একটি সিনেমাও। ষাটের দশকে কবি হিসেবেও ছিল তার সুনাম। মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত গীতিকার হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এবং ২০০৮ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তার লেখা জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- সেই রেললাইনের ধারে’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ আমার বাসর রাতের পালঙ্ক’, ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসা চাওয়াটাই ভুল’, ‘যদি মরণের পরে কেউ প্রশ্ন করে’, ‘আমার মন পাখিটা যায় রে উড়ে যায়’, ‘আমার বাউল মনের একতারাটা’, ‘চির অক্ষয় তুমি বাংলাদেশ’, ‘পদ্ম পাতার পানি নয়, দিন যাপনের গ্লানি নয়’, ‘মাঠের সবুজ থেকে সূর্যের লাল’, ‘আমি নদীর মতন বয়ে বয়ে’, ‘শুক পাখিরে, পিঞ্জিরা তোর খুলে দিলাম আজ’, ‘আকাশের সব তারা ঝরে যাবে’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার শত্রু বলে গণ্য হলাম’।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়