উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার এলজিইডি বিভাগের অনুকূলে রাস্তার ভুতুড়ে কাজে সাধারণ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করোছে।জানাজায়, এলজিইডি বিভাগের নুরনগর ইউনিয়নে কুলতলি-হাজীপুর সংযোগ সড়কে কার্পেটিং-এর কাজ করছে মাইন এন্টারপ্রাইজ নামীয় প্রতিষ্ঠান।আড়াই কিলোমিটার বিস্তৃত এ সড়কজুড়ে বিছানো পুরানো ইটের পরিমান সাত লাখ ৯০ হাজার। দরপত্রের বিধি ও সরকারি আইন অনুযায়ী কাজ শেষে উক্ত ইটের ‘স্যালভেজ’ মুল্য ঠিকাদারের বিলের সাথে সমন্বয়ের কথা। এছাড়া সমুদয় ইট একই সড়ক পুনঃনির্মান কাজে ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে।অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কুলতলি-হাজীপুর সংযোগ সড়কের যাবতীয় ইট কলবাড়ি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কে ব্যবহার হয়েছে। অভিযোগ কতৃপক্ষের যোগসাযশে কলবাড়ি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল হাকিমের কাছে স্বল্প মুল্যে বিক্রি করা হয় উক্ত ইট। একইভাবে নির্মানাধীন উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের দু’পাশে থাকা এইচবিবি (হেয়ারিং বন্ড) এর ৩০ হাজারেরও বেশী ইট রাতরাতি গায়েব হয়ে গেছে। এপর্যায়ে শুধুমাত্র ড্রেণ নির্মান শেষ করেই কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে দুই কোটি ৮২ লাখ টাকার জিওবি মেইনটেন্যান্স’র উক্ত কাজ। অভিযোগ উঠেছে অপ্রয়োজনীয় ডবিউবিএম বা ‘ম্যাকাডম’এর অজুহাতে ‘রিভাইস’ প্রস্তাবনা প্রেরণের জন্যই এমন কৌশল নেয়া হয়েছে। আবার যেনতেনভাবে কাজ করতে যেয়ে একজন নির্মান শ্রমিকের মুত্যর পরও নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বাকি অংশের ড্রেণ নির্মানের কাজ। এছাড়া দু’পাশে বিস্তর জায়গা থাকা সত্তেও উদ্ধারের উদ্যোগ না নিয়ে নামকাওয়াস্তে সংকীর্ণভাবে নির্মিত হচ্ছে সদ্য পৌরসভায় উন্নীত এ জনপদের সবচেয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন সড়কটি।এদিকে বুড়িগোয়ালীনি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কে ছয়টি কালভার্ট নির্মানের ক্ষেত্রে মানা হয়নি ন্যুনতম নিয়ম-কানুন। দরপত্রের নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও পুরানো কালভার্টের বাটন অপসারণ না করেই যেনতেনভাবে সেখানে নুতন ঢালাই দেয়া হয়েছে। এছাড়া কার্যাদেশের ধারে কাছে না যেয়ে নির্দিষ্ট মাপের দ্বিগুন দুরত্ব বজায় রেখে লোহার খাঁচা বেধে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে কালভার্টগুলোতে। যা স্ক্যানার মেশিন দিয়ে যাচাই করলে পুরোপুরি পরিস্কার হয়ে যাবে। আবার পুরানো বেগের উপর দিয়ে ঢালাইয়ের ফলে কালভার্টের উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে উক্ত সড়কের জন্যও রিভাইস প্রস্তাবনা প্রেরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে শুধুমাত্র উল্লেখিত কাজগুলোতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে তা নয়। বরং অনিয়মের সে ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে সদরের এইচসি পাইলট বিদ্যালয় থেকে যমুনা খাল, ভুলোরমোড় থেকে সোনারমোড় ও নকিপুর বাজার থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত ড্রেণ নির্মানসহ আরও অসংখ্য প্রকল্পে।
অনুসন্ধানে দেখা মিলেছে বংশীপুর কসাইখানা নির্মান কাজের নামে মাত্র দুই হাজার ইট কার্যস্থলে পোৗছালেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। একইভাবে এইচসি পাইলট বিদ্যালয় থেকে যমুনাসহ অপর দুটি প্যাকেজের দুইশ ৬৪ মিটার ড্রেণ নির্মান কাজ শুরুর আগেভাগে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ অর্থ ছাড়করণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আবার বরাদ্দ ছাড়ের পর একটি অংশে কাজ শুরু হলেও সেখানে একপাশে স্টিল শাটার দিয়ে সেন্টারিং করা হলেও অপর পাশে গোজামিল দিয়ে কাজ চলছে।অভিযোগ উঠেছে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি চললেও সম্পুর্ন নিশ্চুপ এলজিইডি এর শ্যামনগর উপজেলা শাখার কর্মকর্তারা। তদারকির দায়িত্বে থাকা কতৃপক্ষের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রকল্পসমুহে সাগর চুরির মত ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ।আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সম্প্রতি একজন সহকারী প্রকৌশলীসহ অপর এক কার্য্য সহকারীকে অন্যত্র বদলীও করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন পানখালী ১৮৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকুলে এলজিইডি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় এক বছর আগে।কাজ না করেই প্রকল্পের সমুদয় অর্থ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষের সহায়তায় আত্মসাতের চেষ্টা করলেও সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। যার প্রেক্ষিতে গত কয়েূকদিন পুর্বে সেখানে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠিানটি। অভিযোগসমুহের ব্যাপারে এলজিইডির শ্যামনগর উপজেলা শাখার প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসেন মুটোফোনে বলেন, কুলতলি,হাজীপুর সংযোগ সড়কের ইট পাশে গচ্ছিত রয়েছে। আমার জানামতে সেখান থেকে কোন ইট কলবাড়ী-নীলডুমুর সড়কে যায়নি। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ইট গোপালপুর পিকনিক কর্নার এলাকায় খোয়া তৈরী করে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য কিছু ভুলের কারনে গুরুত্বপুর্ন ঐ সড়কের বরাদ্দ রিভাইসের জন্য পাঠানো হয়েছে। কাজ শুরুর আগেই বরাদ্দ ছাড়ের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, কাজ শুরু হয়নি,তবে হবে। এছাড়া ড্রেণগুলোর সেন্টারিং এর কাজে একপাশে শার্টার ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত নয় বলে স্বীকার করেন। তবে কলবাড়ি-নীলডুমুর সড়কের কালভার্টে ঢালাইয়েূও কয়েকটি সরবরাহ করে খাঁচা বাধার বিষয়টি কার্যাদেশ অনুযায়ী রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
