কালীগঞ্জে গাড়ি মালামাল রক্ষা করতে কলেজ ছাত্র নিহত হলেও খোজ রাখেনি মালিক

সোহাগ আলী,কালীগঞ্জ
বেতনের টাকা কেটে নিবে এ ভয়ের কারনে মালিকের গাড়ি ও মাল রক্ষা করতে গিয়ে কলেজ ছাত্র ট্রেনে কেটে নিহত হয়। গত ৬ মার্চ মেহেদী হাসান কালীগঞ্জ শহর থেকে বেকারী পণ্য নিয়ে লাটাগাড়ি চালিয়ে বাবরা গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে বাবরা রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় লাইনের উপর নসিমন গড়িটি আটকে যায়। সেসময় নসিমনটি ঠেলে সরাতে গেলে খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন লাটাগাড়িটিকে কে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মেহেদী হাসান মারা যান। অঙ্কিতা ট্রেডার্স এর অবৈধ ইঞ্জিন চালিত লাটা গাড়িও মালামাল বাঁচাতে গিয়ে প্রান হারায় হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ও কলেজ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। ঘটনার ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও অঙ্কিতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কালীগঞ্জের বিপুল কুমার সন্তান হারা অসহায় হতদরিদ্র এই পরিবারটির কোন খোজ খবর রাখেনি। নিহত মেহেদির পিতা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। মেহেদি হাসান নিজের জীবনের কথা না ভেবে ডিলারের মালামালসহ লাটাগাড়ি সরাতে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে মারা গেছে। অথচ তার মাহাজন বিপুল বাবু সেভাবে কোনো খোঁজ খবর নেননি। তার পাওনা বেতনের টাকা পরিশোধ করেননি। অঙ্কিতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিপুল কুমারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেহেদীর মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমিও মর্মাহত। সে আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না। ঐদিন আমি তার জানাজায় গেছিলাম। তবে ২ দিন আগে যেয়ে আমি তার বাবা-মার সঙ্গে কথা বলে এসেছি। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়