যশোরে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

0
8

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (আইপিএম) কম খরচে বেশি উৎপাদন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতিতে সাশ্রয়ী খরচে উৎপাদন বেশি হয় বলে জানান কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ যশোর অঞ্চলের তথ্যমতে, যশোর-ঝিনাইদহ জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে বেগুন চাষ হচ্ছে ৯০০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে বেগুনসহ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে মাঠ দিবস ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটি সংস্থা। এর সহযোগিতা করছে ইউএসএআইডি মিশন বাংলাদেশ। অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে এই জাতের বেগুন চাষ করতে হয়। তিন মাসের মাথায় ফলন পাওয়া শুরু হয়। প্রায় সারা বছরই ফলন পাওয়া যাবে। এই বেগুন চাষে বীজ কেনা, সার, শ্রমিকসহ প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হবে ১৩-১৫ হাজার টাকা। বিষমুক্ত সবজির দামও যেমন বেশি পাচ্ছেন, তেমনি বাজারে চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের কৃষক লিটন আলী বলেন, ‘১৬ শতক জমিতে বিটি জাতের বেগুন চাষ করি নভেম্বর মাসে। কীটনাশক ছাড়াই সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (আইপিএম) বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন করেছি। উৎপাদন খরচ পড়েছে ২০ হাজার টাকা। মাসখানেক হলো বেগুন বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে। সব গাছ থেকে বেগুন বিক্রি শুরু হলে প্রতি সপ্তাহে আয় চার গুণে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে কমপক্ষে লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করা সম্ভব হবে।’ ‘বেগুন চাষ করে এত লাভ হবে, কখনো ভাবিনি। এবার দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করব। এই বেগুন বিষমুক্ত। কারণ বেগুনের জমিতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার জন্য বেগুনগাছে সবচেয়ে বেশি বিষ প্রয়োগ করতে হয়। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করায় আমাদের বিষ প্রয়োগ করতে হয়নি। অথচ অন্য বেগুনে প্রতি সপ্তাহে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার বিষ প্রয়োগ করতে হয়।’ বলেন, লিটন আলী। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের ভাগলপুর গ্রামের আরেক কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ১৫ শতক জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে। মাঠে গতানুগতিক বেগুন চাষে পোকার আক্রমণ বেশি। কিন্তু বিটি বারি-৪ জাতের বেগুনে কোনো পোকা নেই। এ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করা হয়েছে। আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করা যাবে।’ ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটি ফিল্ড অফিসার জাহিদ খান বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে বেগুন চাষ হচ্ছে। এখানে সম্পূর্ণ আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করেই বেগুন উৎপাদন করা হচ্ছে। নিরাপদ উপায়ে বেগুন চাষের জন্য কৃষকদের মোটিভেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষক সমাবেশের মাধ্যমে আধুনিক জৈব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে এবং জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, সবজিখেতে পোকা দমনে যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ কারণে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব সবজি চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় কৃষকদের বেগুন চাষে আগ্রহী করতে বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনে সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তিনি জানান, বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষি বিভাগের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায়ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।