উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
বাড়ির অন্য কাজে ব্যস্ত মায়ের নির্দেশনা মেনে হাঁসের বাচ্চা উঠাতে গিয়েছিল সাত বছরের সিফাত হোসেন। বাচ্চাগুলো ধরে মুরগীর ঘরের মধ্যে দেয়ার মুহুর্তে তার হাতে কামড় বসিয়ে দেয় বিষধর সাপ। সন্তানের চিৎকারে দৌড়ে এসে কোলে তুলে নিয়ে তার মা ছুটে যায় প্রতিবেশী কবিরাজের বাড়িতে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে নানান চিকিৎসা চলার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় ১০ কিঃমিঃ দুরবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে পৌছানোর পর স্বজনদের জানানো হয় সিফাত মারা গেছে। গত ১৬ মে (বৃহস্পতিবার) রাতে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ক্লাবমোড় এলাকায়। পিতা শাহিন হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সিফাত মা রুনার সাথে মামার বাড়িতে বসবাস করতো। সে পাশর্বর্তী ছোটকুপোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র ছিল। শিশু বয়স থেকে পিতা হারানো সিফাতের এমন মুত্যর ঘটনা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র অবলম্বন সন্তানকে হারিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন গৃহস্থলীর কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রিত রুনা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু জানান সিফাতের দুই বছর বয়সে তার পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র সংসার শুরু করেন। ভাইয়ের সহায়তায় সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করার পাশাপাশি এ বছর সবে স্কুলে পাঠিয়েছিল রুনা। সিফাতের এমন বিদায় গোটা এলাকাবাসীর মনকে ছুঁয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কমকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান মৃত অবস্থায় সিফাতকে হাসপাতালে নেয়া হয়। শুরুতে কবিরাজের শরানাপন্ন না হয়ে হাসপাতালে নেয়া হলে হয়তবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পাওয়া যেত।

