প্রয়াত কৃষকনেতা মাস্টার ইমান আলীর মৃত্যুবার্ষিকীত পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কৃষকনেতা মাস্টার ইমান আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ২৬ মে রবিবার ঝিনাইদহ মল্লিকপুর নতুন বাজারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল কুমার সরকার, সাখাওয়াত হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক তাপস বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডাঃ ওলিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ফারুক, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মাগুরা জেলার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার, কেন্দ্রীয় সদস্য ও নড়াইল জেলার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, যশোর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস প্রমুখ। গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ যশোর জেলার নেতা তাইজেল ইসলাম। স্মরণসভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হক লিকু।  নেতৃবৃন্দ বলেন, প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলের আগ্রাসন-গণহত্যা ও রুশ-ন্যাটো যুদ্ধ তথা সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কট বৃদ্ধি করছে। সে আশক্সক্ষার প্রেক্ষিতে জনগণের খাদ্য সঙ্কট ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা ইতিপূর্বেই কৃষক ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার সেদিকে কর্ণপাত না করে প্রভু ও লুটপাটকারীদের স্বার্থে দেশ ‘উন্নয়ন’র মহাসড়কে চলার কথা বলে ব্রীজ, মেট্রোরেল, টানেল, মেরিন ড্রাইভ, পারমাণবিক ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে ঋণের বোঝা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি করে চলেছে। এ ‘উন্নয়ন’ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা সৃষ্টিতে, কৃষি উৎপাদন উপকরণের মূল্য কমানোর ক্ষেত্রে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা জাতীয় স্বার্থে কোন অবদান রাখছে না এবং ভবিষ্যতেও রাখবে না। তথাপিও ঐ সকল জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ‘উন্নয়ন’ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিলেও কৃষি উৎপাদনের স্বার্থে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নাই। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যসহ দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য প্রয়োজন ছিল সকল কৃষি উৎপাদনের উপকরণ বিনামূল্যে কৃষকদের সরবরাহ করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা। তা যেমন সরকার করেনি, অন্যদিকে সরকার সারের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে সেই মূল্যে কোথাও সার বিক্রি হয় না বা পাওয়া যায় না। এতো এতো ‘উন্নয়ন’ সত্ত্বেও সার, বীজসহ প্রত্যেকটি কৃষির উৎপাদনের উপকরণ ও খাদ্য আমদানী নির্ভর। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ঐ সকল উপকরণ ও খাদ্য আমদানীতে সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে দেশেও খাদ্য সঙ্কট পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। যার প্রতিফলন হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে ধানের বাজার দর পুনর্মূল্যায়ন করে নির্ধারিত মূল্য প্রাপ্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিল সময়ের দাবি, সরকার তাও করেনি। চলতি বছর পাটের চাষেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবীসহ গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূমিহীন গরিব কৃষকদের এ দুর্বিষহ দ্রব্যমূল্যের বাজার রেশনিংয়ের ব্যবস্থাও করেনি। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মম শোষণের কারণে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। যার অংশিদার হিসেবে ভারত সরকার কর্তৃক একতরফাভাবে অভিন্ন নদ-নদীর পানি প্রত্যাহার করছে এবং আমাদের সরকারও পরিবেশ ধ্বংসের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে মৌসুমে মৌসুমে কৃষকের ফসলসহ সকল সম্পদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অথচ সরকার এর দায় বহন করছে না। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমেও ব্যাপক খরা-তাপদাহ ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারীকালেও আমরা দেখেছি কৃষিখাতে যে নামমাত্র ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তা মূলত কৃষক পায়নি। জিকে ও বিএমডিএ প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা। কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের তিনটি পাম্পই নষ্ট। এ কারণে এতে জিকে প্রকল্পের পানির ওপর নির্ভরশীল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার কয়েক লাখ কৃষক বিপদে পড়েছেন, তাঁরা বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি পাচ্ছেন না। এছাড়া ভূগর্ভ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দিলে যেখানে একরপ্রতি ন্যূনতম ৮-১০ হাজার টাকা খরচ লাগে, সেখানে এই প্রকল্পের পানিতে একরে সেচ খরচ পড়ত মাত্র ২ হাজার টাকা। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ যেমন কমত, তেমনি গড়ে ৭০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবহেলার কারণে লাখ লাখ চাষি সেচের পানি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দেশের রাজনীতিতে লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর এমন আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিনির্ধারকদের কাছে কৃষকদের স্বার্থ তেমন প্রাধান্য পায় না। আর এ কারণেই সেচের পানি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ কৃষকের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় নেতৃবৃন্দ গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের সুবিধা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভূমিহীন গরিব কৃষকসহ মেহনতি-জনতার জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সীমাহীন বেকারত্ব ও আয় কমে যাওয়ায় জনগণের জীবন নির্বাহ করা যেখানে দুঃসাধ্য সেখানে সরকার পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে মেগা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সর্বাত্মক লুটপাটের সুযোগ নিয়ে জনগণকে ঋণের

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়