১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

মূল্যস্ফীতিতে লাগাম টানতে হবে

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার ঘুরেফিরে আসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট কাটাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা এবং বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার প্রসঙ্গ। এছাড়া প্রশ্ন আসে বাড়তি করের চাপ, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণনির্ভরতা ও ব্যাংক খাতের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে। এ বাজেট নিয়ে চলমান সংকট মোকাবিলা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে ছিল। দুই বছরের মধ্যে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এক দশক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫-৬ শতাংশ। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকারের পদক্ষেপের কারণে এখন মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। এবার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আগামীতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ডিসেম্বরের মধ্যে এর প্রভাব দেখা যাবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। বৈশ্বিক নানা সংকটে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। অধিকাংশ দেশ মূল্যস্ফীতিতে লাগাম টানতে সফল হলেও আমরা এখনো পারিনি। আর এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। অর্থনীতিবিদ ও খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি দেখার দায়িত্ব সরকারের। মূল্যস্ফীতি কমানোর ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। মূল্যস্ফীতি বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যে, একই পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করতে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। অর্থাৎ বলা যায় যে, মূল্যস্ফীতি হলে অর্থের মূল্য কমে যায়। অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরো উসকে দেবে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। এছাড়া বাজেটে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবনা কর ফাঁকিকে উৎসাহিত করবে, যা নৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা করে নিয়মিত করদাতাদের তিরস্কৃত করা হচ্ছে বলে মনে করে সংস্থাটি। সংস্থাটির বক্তব্যও আমলে রাখতে হবে। মূল্যস্ফীতি না কমালে দেশে বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ- সব মিলিয়ে জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। আলাদাভাবে দেখলে গ্রামাঞ্চলের খাদ্য মূল্যস্ফীতি শহরের থেকে বেশি। সরকার বলছেন, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, এটাকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এটা কমবে। সরকার এরই মধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিগগিরই মূল্যস্ফীতিকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারবে, এ কথা মনে করা ঠিক হবে না। বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ আছে, এছাড়া নিকট অতীতে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, পরিকল্পনাগত ভুল এবং আমরা অনেক বেশি বাস্তবমুখী চিন্তা না করে অনেকটা উচ্ছ¡াসে ভেসে গিয়ে তার চাপও আমাদের এখন নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মধ্যেই থাকবে অনেক দিন। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কী? আর্থিক ব্যবস্থা, রাজস্ব-সংক্রান্ত ব্যবস্থা, প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সর্বোপরি বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। উৎপাদন ও সরবরাহ ঠিক থাকলেও কারসাজি করে বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন দ্রব্যমূল্য। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারের তালিকায় এখন ডাল, আলুভর্তা ও ডিমের জোগান দেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেমন বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়