কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকালে ঘাঁস কাটতে গিয়ে প্রায় ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এক রাসেলস ভাইপার সাপকে আধমারা করে এক কৃষক। পরে স্থানীয় লোকজন সাপটিকে প্লাস্টিকের দড়ি পেঁচিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর সাপটির পেটে বাচ্চা আছে কি না তা দেখতে সাপটির পেট ব্লেড দিয়ে কাটেন এক পশু পল্লী চিকিৎসক। এরপর সাপটিকে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক জনতা সাপটিকে দেখতে ভিড় করে। সেই দৃশ্যর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পক্ষে ও বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া নামের বিষধর সাপ, যা জনমানুষের মনে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। যে আতঙ্কের কারণে রাসেলস ভাইপার নিয়ে মানুষের উৎকণ্ঠার শেষ নেই। ফলে সাপ আতঙ্ক থেকে বর্তমানে নির্বিচারে চলছে সাপ নিধন, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে বিষয়টি অমানবিক ও আইনবিরোধী বলে দাবি করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদরা। আর গ্রাসবাসী বলছেন, সাপটি ভয়ংকর ও বিষধর হওয়ায় লোকজনের মাঝে পরিচিত করতে এবং সবাইকে সচেতন করতে গাছে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে। উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এভাবে একটি জীবকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা পেট চেরা আইন বিরোধী ও নেক্কারজনক। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিকেলে সরেজমিনে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে কল্যাণপুর এলাকার মোক্তার হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান নিজ জমিতে ঘাঁস কাটতে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জমিতে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান। এরপর সাপটি হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে আধামরা করেন এবং তার ভাই নাসির উদ্দিনকে ফোন দেন। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে বটতলা নামক স্থানে নিয়ে এসে একটি গাছে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে। এরপর সাপটির পেটে বাচ্চা আছে কি না তা দেখতে পেট চিরে দেখেন স্থানীয় পশু পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক। অতপর সাপটিকে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ আবার এই সব দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ভাইরাল করেছেন। এ বিষয়ে কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, নিজ জমিতে ঘাঁস কাটার সময় সাপটি তার দিকে তেড়ে আসছিল। সে সময় তিনি সাহস করে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে আধমরা করেন। এরপর ফোনে স্থানীয়দের ডাকেন তিনি। বটতলা এলাকার মুদি দোকানি বকুল হোসেন বলেন, সাপটি বিষধর ও ভয়ংকর। সেজন্য জনগণকে সচেতন করতে এবং পরিচিতি বাড়াতে সাপটিকে সবাই মিলে অনেকক্ষণ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এভাবে ব্লেড দিয়ে সাপটির পেট চেরা করা ভুল হয়েছে বলে জানান পশু চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, সাপটির পেট মোটা ছিল। পেটে বাচ্চা আছে কি না? তা দেখার সবাই তাকে পেট চেরার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে এ কাজ করা ভুল হয়েছে বলে জানান তিনি। অপরদিকে রাসেলস ভাইপার সাপের খবরে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সবাই ঘরে থাকতে এবং মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলেন জানিয়েছেন কৃষক রবিউল ইসলাম ও গৃহিণী সেবা রাণী বিশ্বাস। ঘটনাটি বন ও প্রাণী সংরক্ষণ আইন বিরোধী বলে জানান বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন। তিনি বলেন, বড় কোনো জনসচেনতা নেই। এভাবে আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি। ভবিষ্যতে এর ক্ষতিপূরণ কোনোদিন শোধ হবে না। এমন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, মানুষ আতঙ্কে অনেক কিছু করে ফেলেন। সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

