জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হোক

সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশনা দেয়ায় আপিল বিভাগের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সাত দিন ধরে চলমান তাণ্ডব, নৃশংসতা, দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপট থেকে রায়টি এসেছে। গত রবিবার সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে বিচক্ষণ এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সব মহল। এর মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্টচিত্তে ঘরে ফিরে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করা যায়। এর আগে গত শুক্রবার রাতে আন্দোলনকারীদের প্রধান তিন সমন্বয়ক রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন মন্ত্রীর সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছিলেন। তখন সমন্বয়করা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন মিডিয়াতে, বিভিন্ন জায়গায় ভুল বা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরার জন্য এসেছি। আলোচনার দ্বার রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, কী কী দাবি পূরণ করলে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত হবে, তা তুলে ধরেছি। এ সময় তারা স্পষ্ট করেছে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে ভাঙচুর, জ¦ালাও-পোড়াও, সহিংসতা হয়েছে, তা তারা কখনোই সমর্থন করে না। তারা আরো বলেন, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী ভাঙচুর, মেট্রোরেলে আগুন দেয়ার মতো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই জড়িত নন। তারা এ বিষয়েও অবগত ছিলেন, কারফিউ চলাকালে কোনো ধরনের আন্দোলন রাষ্ট্রবিরোধী। এর থেকে বোঝা যায়, কারফিউ চলাকালে বা এর আগে আন্দোলনের নামে যেসব নাশকতা হয়েছে বা হচ্ছে তার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে আজ পরিপত্র জারি করা হতে পারে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে এলে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানান জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এদিকে আপিল বিভাগের রায়কে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তারা। এবার বাকি দফাগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সরকারকে ভাবা উচিত। এখন আন্দোলনের সমন্বয়করা প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে পরিপত্র জারির অপেক্ষা করছে। এদিকে যেসব স্থানে দুর্বৃত্তরা এতদিন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সেসব স্থান এখন অনেকটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। পরিবেশ আগের চেয়ে প্রায় শান্ত হয়েছে বলা যায়। তবে এসবের মাঝে একবারে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন। মুখ থুবড়ে পড়েছে ব্যবসায় ক্ষেত্রগুলো। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আইটি খাতে। পরিবহন চলাচল বন্ধের অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটা আকাশ ছুঁইছুঁই। পরিশেষে এমন অবস্থায় দেশ ও জনগণের কথা মাথায় রেখে জনজীবন স্বাভাবিক করার ব্যাপারে সরকারকে ভাবা উচিত বলে মনে করছি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়