প্রতিদিনের ডেস্ক॥
সোশ্যাল মিডিয়ার আধেয় বিশ্লেষণ ও ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত টুল মেটা মালিকানাধীন ক্রাউডট্যাঙ্গল বন্ধ করেছে কোম্পানিটি। মেটার এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের প্রসার নিয়ে গবেষণা করেন, তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের জন্য ক্রাউডট্যাঙ্গল নামের এ অনলাইন টুলের ওপর নির্ভর করেন। ক্রাউডট্যাঙ্গল বন্ধ হওয়ার পর মেটা কীভাবে এসব গবেষণা ও স্বচ্ছতাকে সমর্থন করবে, সে সম্পর্কে আরো জানতে চায় ইইউ। খবর এনগ্যাজেট।
ইইউ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রাউডট্যাঙ্গল বন্ধ করা উদ্বেগজনক। কারণ অনলাইনে ভুল তথ্য নিয়ে কাজ করা বা অধ্যয়নরত গবেষকদের জন্য টুলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রাউডট্যাঙ্গল একটি অনুসন্ধানী সংস্থা ও পরিষেবা। এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মেটার কাছে আরো তথ্য জানতে চেয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন। ডিজিটাল পরিষেবা আইনের (ডিএসএ) অধীনে মেটার কাছে অনুরোধটি করা হয়েছে। ডিএসএ হলো ইইউ আইনের একটি অংশ, যা ইউরোপের মধ্যে ডিজিটাল পরিষেবা ও অনলাইন প্লাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজাইন করা। যদি মেটার মতো একটি কোম্পানি এ নিয়মগুলো মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ডিএসএ ইইউকে উল্লেখযোগ্য জরিমানা আরোপ করার অনুমতি দেয়।
ইউরোপিয়ান কমিশন জানায়, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এপ্রিলে মেটার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে তারা। এ উদ্বেগের মধ্যে অন্যতম ছিল ইউরোপিয়ান নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ক্রাউডট্যাঙ্গল বন্ধ করার পরিকল্পনা। কারণ এটি গবেষক ও সাংবাদিকরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মিথ্যা তথ্য ট্র্যাকে ব্যবহার করেন। টুলটি না থাকার ফলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকালে ভুল তথ্য পর্যবেক্ষণ ও মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন বলছে, ১৪ আগস্ট মেটা শুধু ক্রাউডট্যাঙ্গল বন্ধ করেনি, একই সঙ্গে এর ড্যাশবোর্ডগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ ট্র্যাকের জন্য টুল ও ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে বা রিপোর্ট উভয়ের অ্যাকসেস হারিয়েছে।
মেটাকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বলেছে ইইউ। মেটার জবাবের ওপর ভিত্তি করে ইইউ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

