সোহেল আহমেদ, কালীগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা চরম অবনতি ঘটেছে। ইদানিং চুরি ডাকাতি ছিনতাই ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি রাতেই উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি খবর পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু প্রশাসনের তেমন কোন কার্যকরি পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। যার কারনে আরো বেশী চিন্তিত হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী। এক রাতে কালীগঞ্জ মেইন বাসষ্ট্যান্ডে জামে মসজিদ মার্কেটে বাবলু জেনারেল ষ্টোরের তালা ভেঙে প্রতিবদ্ধী বাবলু রহমানের নগদ প্রায় লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং কোটচাঁদপুর রোডের বিহারী মোড়ে আড়পাড়া জামে মসজিদের মেইন গেটের তালা ভেঙে মসজিদের ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে। ওই রাতেই উপজেলার বড় ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আরিফ হোসেন এর বাড়ি থেকে একটি ষাড় গরু ও একটি বকনা গরু গোয়াল থেকে বের করে বাস্তায় নিয়ে আসার পর তার চাচা টের পেয়ে গেলে চোরেরা গরু গুলো রেখে পালিয়ে যায়। এর আগে বাবুল আক্তারের বাসার নিচ থেকে তার ব্যবহৃত ১০০ সিসি হিরো ব্রান্ডের মোটর সাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। ২ ডিসেম্বর রাত দুটোর দিকে দিশারী কাঠগোলা নামক প্রতিষ্ঠানে একদল ডাকাত ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এরকম ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে। প্রতিবন্ধী দোকানদার বাবলু রহমান জানান, আমি রাত ১১:৩০ মিনিটে দোকান বন্ধ করে বাড়ী চলে যায়। সকালে দোকানে এসে দেখি আমার দোকানের তালা ভেঙে কার্টুনের মধ্যে থাকা প্রায় ১ লাখ টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা। মেইন ষ্ট্যান্ডের উপর যদি এমন চুরি হয় তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিন্তে থাকব। গত এক মাসে কাদির কল ও সুন্দরপুর গ্রামের ১০টি ও গুঞ্জনগর ৪টি গরু চুরি হয়েছে।তাছাড়া বিভিন্ন রাস্তায় রাতে ছিনতাই,রোডের সরকারি গাছ চুরির মত ঘটনা প্রায় ঘটছে। কালীগঞ্জ থানার আফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি নিজে রাতে নিয়মিত টহল দিই। আমাদের জনবল সংকট, আমি সেটা এসপি অফিসে অবহিতও করেছি। চুরির ব্যাপারে আমরা সর্বদা সচেষ্ট আছি। চেষ্টা করছি চোর ও ডাকাত চক্রের সদস্যদেরকে আটকাতে। আর গরু চুরি নিয়ে আমি খুব চিন্তিত, এমনিতেই শীতের সময় চোরের উপদ্রব বাড়ে। আমি বিট পুলিশে যারা আছেন তাদেরকে আরো সর্তক থাকতে এবং স্থানীয়দেরকে পালাক্রমে পাহারা দেওয়ার জন্য বলেছি। তাছাড়া চুরির ব্যাপারে গ্রামবাসীকেও সচেতন করার চেষ্টা করছি।’

