খুবি সংবাদদাত॥
“খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ১২তম সভা আজ শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। পিআইসি’র সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্ভূত সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের প্রয়োজনীয় সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভার শুরুতে প্রকল্পের পরিচিতি, প্রকল্পের উদ্দেশ্য, অগ্রগতি এবং অঙ্গভিত্তিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. হাসানুজ্জামান। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যবৃন্দ প্রকল্পের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে গুরুত্বরোপ করেন। এ সময় সদস্যবৃন্দ প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি আজ দৃশ্যমান। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর হাজারো দক্ষ জনশক্তি বের হয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত হচ্ছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশ-বিদেশে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা-গবেষণার পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোগত দিক থেকেও সর্বোচ্চ ধাপে উন্নীত করতে হবে। এক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যে সকল কাজ চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্পের অনেকগুলো অবকাঠামো নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এগুলোও শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি এই প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য পিআইসির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান এবং প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে প্রতিনিধি দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। উপাচার্য আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী বাড়লেও পর্যাপ্ত জমির সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি জীব বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলোর মাঠ গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। ফলে মাঠ গবেষণার কাজ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়াতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এজন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এ ছাড়াও উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পিআইসির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চলমান কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়কে নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আনা জরুরি। এক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রস্তাবনা পাঠালো পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে। সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের মাল্টিসেক্টরাল ইস্যুজ ও সমন্বয় অনুবিভাগের উপপ্রধান নাহিদ ফারজানা সিদ্দিকী, পরিকল্পনা কমিশনের উপপ্রধান (উপসচিব) বাবুলাল রবি দাস, ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক তানভির মোর্শেদ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (আইপিআইসি) সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ খসরুল আলম, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প তদারকি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম, সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলাম উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজা, উপসচিব আহমেদ শিবলী, ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ-৬ এর পরিচালক সোনিয়া বিনতে তাবিব, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের উপসচিব মোঃ রকিবুল ইসলাম, একনেক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান স্নিগ্ধা তালুকদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহরিয়ার জামিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থেকে আলোচনা করেন। সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ প্রকল্পের আওতাধীন চলমান বিভিন্ন ভৌত-অবকাঠামোর কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

