৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোহাগড়ার নলেন গুড়ের সন্দেশ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়ায় খেজুর গাছের রস দিয়ে তৈরি হয় নলেন গুড় । তা থেকে তৈরি করা হয় মিষ্টি বা সন্দেশ তাকে বলা হয় ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’। জেলার ঐতিহ্যবাহী এবং সবচেয়ে সুস্বাদু আর লোকজনের মিষ্টি খাবারের নামই হলো নলেন গুড়ের সন্দেশ। বাঙালির ইতিহাসে নলেন গুড়ের বন্দনা নতুন নয়। সেই দ্বাদশ শতাব্দীতে নীহাররঞ্জন রায় ‘বাঙালির ইতিহাস,আদি পর্ব’ গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন হেমন্তের নতুন গুড় তথা নলেন গুড়ের কথা। খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে তৈরি নলেন গুড় শত শত বছর ধরে বহন করে চলেছে ইতিহাস। লোহাগড়ার ‘সাহা সুইটস, কুন্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার ,মুসলিম সুইটস’ শীতের সময়ে তৈরি যাচ্ছে নলেন গুড়ের প্যারা সন্দেশ, নলেন গুড়ের ক্ষীরের সন্দেশ, ক্ষীরের চমচম, কাঁচাগোল্লা, কালোজামসহ বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি। যেগুলোর স্বাদ আর গন্ধ দেশের মাটি অতিক্রম করে পা রেখেছে দূর প্রবাসে। লোহাগড়ার লক্ষীপাশা পুরাতন খেয়াঘাট সংলগ্ন সাহ সুইটস এবং লোহাগড়া বাজারের সুরেন্দ্র মিষ্টির দোকানসহ কয়েকটি দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নলেন গুড়ের সন্দেশ। শীতের শুরুতেই কদর বেড়েছে ‘নলেন গুড়ের সন্দেশে’র। এ সন্দেশের চাহিদা শুধু দেশে নয় বিদেশেও রয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ মিষ্টি গুণের কথা পৌঁছে যাচ্ছে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মালোয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি-আরব, দুবাইসহ মধ্য প্রচ্যের প্রভৃতি দেশে। এ অঞ্চলের প্রবাসীদের কাছে সরবরাহ হয়ে থাকেন এ গুড়ের সন্দেশ। মঙ্গলবার লোহাগড়া বাজারে সুরেন্দ্র সুইটস মিষ্টি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সন্দেশ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন কোনো কোনো দোকানে ১-২ মণ সন্দেশ বিক্রি হয়ে থাকে। আর স্থানীয় বিয়ে, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে এই মিষ্টির দেখা মিলবেই। বাড়িতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়রা এলেও একবার এ মিষ্টির স্বাদ যেন নিতেই হয়।এছাড়া সন্দেশ খেতে চলে আসে আশ-পাশের জেলার ভোজনবিলাসী লোকজন। ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’ কিনতে আসা আনিসুজ্জামান বলেন, তার বোনদের পরিবার থাকেন আমেরিকা। তাদের কাছে পাঠানোর জন্য এ মিষ্টি কিনতে এসেছেন। গুণগত মান ভালো হওয়ায় এ মিষ্টি খেয়ে তৃপ্তি পান তারা। সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা কাজী শওকত আলী জানান, পরিবারের সদস্যদের জন্য এ‘নলেন গুড়ের সন্দেশ’ কিনতে এসেছি। মূলত ছোটবেলা থেকেই লোহাগড়া বাজারের নলেন গুড়ের সন্দেশ খাচ্ছেন তিনি। সাহা সুইটসের স্বত্বাধিকারী অভিজিৎ সাহা জানান, বংশ পরম্পরায় ত্রিশ বছরেরও অধিক বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি আমরা। আমার ঠাকুর দাদা সচিন্দ্রনাথ সাহা নলেন গুড়ের সন্দেস তৈরি করে বিক্রি করতেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও সুনাম থাকায় ঠাকুর দাদার মৃত্যুর পর দাদি নমিতা রাণী সাহা হাল ধরেন। নলেন গুড়ের সন্দেশ তৈরি ও বিক্রি আমাদেরও পৈত্রিক ঐতিহ্য বহন করে। অতুলনীয় স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে এই মিষ্টি ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য। দীর্ঘ সময়েও ভাটা পড়েনি চাহিদায়। এখন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এই মিষ্টি যাচ্ছে বিদেশেও।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়