আলমগীর হোসেন, পাটকেলঘাটা
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বড় কাশিপুর গ্রামে ২০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজিবুল নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা কাঁচা ধান কাটতে যায়। সাথে নিয়ে যায় ধান কাটার একটি কাঁচি ও একটি রামদা, সাথে ছিল তার বড় ছেলে আরবিপ (১৪)। যে জমিতে ধান কাটতে যায় এই জমিটি রাজিবুলের ছোট ভাই মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হায়দার শেখের কাছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখে।এছাড়াও মোহাম্মদ মোক্তার আলী খানের কাছে ২ লক্ষ টাকা, মোহাম্মদ হযরত আলীর কাছে ২ লক্ষ টাকা ও মোহাম্মদ কাশেম শেখ এর কাছে তিন লক্ষ টাকার জমি বন্ধক রাখে। এই জমিতে যখন ধান কাটতে যায় তখন মহম্মদ হায়দার আলী সহ কয়েকজন বাধা দেয়। বাধা দিলে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিবুল বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং রামদা দিয়ে তাদেরকে মারার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে সেটা মারামারিতে রূপ নেয় এবং প্রতিপক্ষের আঘাতে রাজিবুলের মাথা ফেটে যায়, সাথে সাথে মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বড় ছেলে আরবিপ (১৪) ও আহত হয়ে সদর হসপিটালে ভর্তি হয়। এই ধানের জমিতে পানি দেয় মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলাম। রাজিবুলকে এই কাঁচা ধান কাটতে নিষেধ করছিলাম সে আমারেও ধমক দেয় এবং মামলার ভয় দেখায় আর বলে তোদের মত অনেক মানুষ মারছি। মোহাম্মদ মুক্তার আলী বলেন, টাকা দিয়ে জমি বন্ধক রাখছি আমার টাকা ফেরত দিলে আমি চলে যাই। তা না দিয়ে আমাকেও মামলার ভয় দেখায়।’ রাজিবুলের মায়ের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার স্বামী যখন অসুস্থ ছিল তখন মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখছিলাম পরবর্তীতে আরো ২ লক্ষ টাকা নিছিলাম। আমাদের এই টাকা রোজার ঈদের পরে দেব। তো আমার ছেলের মাথার একটু সমস্যা আছে তাকে গাছের সাথে বেঁধে রাখতে পারতো না মেরে।’ এ বিষয়ে রাজিবুলের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার আব্বা মারা যায় ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল। আমি ও আমার মেজো ভাই মোহাম্মদ ওলিউর রহমান বাইরে থাকার সুবাদে আমার ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম আমার আর মেজ ভাইয়ের জমি বন্ধক রাখে সেই টাকা আমি কেন দেব। এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ কাছেদ মুন্সি বলেন,‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি যারা দোষী অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

