নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে সবিতা রানীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। হত্যার প্রায় ৫ মাস পর ভিসেরা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছর নিখোঁজের ৩৩ ঘন্টা পর ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রামটির বাসিন্দা নিয়ামুল শেখের (২৬) সেপটিক ট্যাংক থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছিল ওই সংখ্যালঘু গৃহবধূর লাশ। এই হত্যাকাণ্ডটি চাঞ্চল্যকর হলেও জুলাই আন্দোলনের কারণে চাপা পড়েছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান-ওই গৃহবধূর মরদেহের ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে পাঠানো হবে। জানা যায়-নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায়। সেকারণেই প্রকৃত তথ্য জানা গেল। এদিকে, লাশের সৎকার শেষে পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিহত গৃহবধূ সবিতা রাণী দে’র স্বামী মিলন কুমার দে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তার প্রতিবেশী ভাটপাড়া গ্রামের দেবপাড়া এলাকার নিয়ামুল শেখ (২৬), তার বাবা রমজান শেখ (৪৯) ও চাচা ইউনুস শেখের (৪১) নাম উল্লেখ করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করে। তিনজনের মধ্যে নিয়ামুল শেখ কারাগারে আছেন। অন্য দুজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে গরুর খাবার সংগ্রহ করতে বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে যান ওই গৃহবধূ। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে না এলে পরিবার ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর (নিখোঁজের প্রায় ৩৩ ঘণ্টা) সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশে বাঁশবাগান সংলগ্ন নিয়ামুল শেখের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা কিছুটা উঁচু দেখা যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা উঁচু করলে একটি হাত দেখা যায়। খবর পেয়ে উপজেলার ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এলাকাবাসী জানান, ওই গৃহবধূর স্বামী সিঙ্গারা, পুরি ও চায়ের দোকানি। স্থানীয় ভাটপাড়া বাজারে তার দোকান রয়েছে। তাদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। দ্রুতই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে পাঠানো হবে।

