৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের সর্বনাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধান ও লিচুর। এছাড়া শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এই শিলা বৃষ্টির স্থায়ীকাল ছিল আধা ঘন্টা মতো। যেকারণে কিছুটা হলেও কম ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিসের দাবি ১৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে। যদিও তার স্থায়ীকাল ছিল খুবই কম সময়। শিলাবৃষ্টিতে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩ টার দিকে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলায় উঠতি বোরো ধান, আম, লিচু ও পটলের ক্ষতি হয়েছে। হৈবতপুরের আব্দুস সাত্তার জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার ঘরের টিনগুলো ফুটো হয়ে গেছে। এছাড়া চুড়ামনকাটির আদর্শপাড়ায় দুটি ঘরের টিনের পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোগাছিয়া গ্রামের কৃষক হাবিব জানান, বিঘা প্রতি ৩০ মন পাওয়ার আশা ছিলো। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তার পাকা ধান অর্ধেকের বেশি ঝরে গেছে। শিলায় চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর মাঠে বিঘা বিঘা জমির পটলের ফুল নষ্ট ও আগা ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে, শিলাবৃষ্টিতে চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর, টেঙ্গুরপুর, আন্দারকোটা, সিংহঝুলী ও সলুয়া এলাকায় বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চাষিরা জানিয়েছেন, কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আর গাছের ধান শিলার আঘাতে ঝরে নষ্ট হয়েছে। সিংহঝুলী গ্রামের শাহিন জানান, তার ১২ বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘা জমির ধান এখনো মাঠে আছে। শিলার আঘাতে ওই চার বিঘা জমির অধিকাংশ ধান জমির সাথে মিশে গেছে। তার মতো আরও অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়েছে। চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন জানান, বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। হঠাৎ শিলাবৃষ্টির কারণে মাঠের বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে তাপপ্রবাহ শেষে আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢাকা পড়ে যশোরের আকাশ। পরে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখীর সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। একপর্যায়ে বৃষ্টি কমে এলেও প্রচুর শিলা পড়তে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, আকস্মিক এই শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চৌগাছা উপজেলায়। মাঠে ৭০–৮০ শতাংশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ বছর এক লাখ ৫৭ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত কাটা হয়েছে ৫১ শতাংশ জমির ধান। তিনি আরও বলেন, এখন কেটে রাখা ধান ক্ষেত থেকে পানি বের করার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগামীকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতি ঘটবে। তাই আমরা চাষিদের পাকা ধান দ্রুত কেটে নেয়ার পরামর্শ

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়