৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সীমান্তে অব্যাহত পুশইন চেষ্টা

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা এ অঞ্চলের ভূরাজনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জামালপুরের বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্ত থেকে শুরু করে সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূল এবং রংপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় একের পর এক পুশইনের ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসছে। বিশেষ করে রামরামপুর সীমান্তে ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে এবং সুন্দরবন উপকূলীয় নদীপথ ব্যবহার করে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা শুধু আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত নীতিমালারই লঙ্ঘন নয়, বরং তা চরম মানবাধিকার পরিপন্থি ও অমানবিক আচরণ। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পেশাদারি ও সাহসী ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে রামরামপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলির হুমকির জবাবে বিজিবি সদস্যদের তাৎক্ষণিক ও বজ্রকণ্ঠে কড়া প্রতিবাদ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের আপসহীন মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ সাময়িক সমাধান দিলেও সীমান্তের স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং বলপ্রয়োগের নীতি পরিহার করে জোরালো কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের পক্ষ থেকেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত চুক্তির আলোকে এই অমানবিক ‘পুশইন’ প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ করতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর আলোচনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির পর দেশের ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর যে ছন্দপতন ঘটেছিল, সে ক্ষত আজও পুরোপুরি শুকায়নি। এ বাহিনীর একটি দীর্ঘ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। সীমান্তের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের মনোবল আরও সুদৃঢ় করতে হলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর আত্মপরিচয় ও সাহসিকতার শেকড়ে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। আমরা মনে করি, বাহিনীর মনোবল ও হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে বিজিবিকে আবারও ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ বা বিডিআরে রূপান্তরিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের বিবেচনা করা উচিত। এই নাম ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মাঝে দেশপ্রেমের শক্তি নতুন করে জাগ্রত হবে। আমরা আশা করি, সরকার বাস্তবতার নিরিখে সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি এ বাহিনীর গৌরব পুনরুদ্ধারেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়