চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (১০ মে) বিকেল ৩টার দিকে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় হিটস্ট্রোকে আতিয়ার রহমান (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ২৩ শতাংশ। গত দুদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। দিনদিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড গরমে শহরের রাস্তাঘাট দুপুরের পর থেকে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শ্রমজীবী মানুষজন কাজে বের হলেও গরমের তীব্রতায় দ্রুত ফিরে আসছেন। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, ‘গত কয়েক দিন চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। এখন সেটি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই। আজকে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এটা।’ চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে অনেকেই জ্বালা-পোড়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও পানিশূন্যতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গরমে সবাইকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পানি পান করুন। হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাই অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।’ এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় হিটস্ট্রোকে আতিয়ার রহমান (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ মে) দুপুরে সদরের আলোকদিয়া বাজারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আতিয়ার রহমান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাজারে একটি দোকানের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কৃষক আতিয়ার রহমান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদ মোহাম্মদ রবিন বলেন, অতিরিক্ত গরমে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেল ৩টার দিকে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ ডিগ্রিতে। ওই সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। ফলে গরমের তীব্রতা ছিল অসহনীয় পর্যায়ে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, বিকেল ৩ টায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৩ শতাংশ। আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নেই।

