৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোলে গাছে ঝুলছে স্বামীর লাশ বাড়ীর পাশে মিলেছে স্ত্রীর মরদেহ # ধর্ষণের পর পরিকল্পিত হত্যা অভিযোগ

সৈকত হোসেন
বেনাপোলের রঘুনাথপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গাছে ঝুলছিল মনিরুজ্জামান (৫৫)। পাশেই পড়েছিল তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের (৪৮) মরদেহ। হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটিকে অনেকেই মনে করছেন স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছাড়াও মনিরুজ্জামান-রেহেনা ছিলেন দেনায় জর্জরিত। প্রতিবেশীদের কাছে দেনা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও-র কিস্তির দেনায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিরেন তারা। তবে স্বজনদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ লাশ মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না-দাবি পুলিশের। নিহত মনিরুজ্জামান রঘুনাথ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

শনিবার (১৪ জুন) সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহত রেহেনার শরীরে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। পরিবারের দাবি তাকে ধর্ষণ করা হতে পারে। তবে তার স্বামীর শরীরে তেমন কিছু নজরে পড়েনি। স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা এবং হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হতে পারেন রেহেনা বেগম। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা দ্রুত তদন্ত করে মৃত্যু রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত সীমান্তবর্তী রঘুনাথপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ও রেহেনা বেগম দুই সন্তানসহ বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে তাঁদের মেয়েরবিয়ে হয়। ছেলে দিনমজুরের কাজ করেন।


নিহত মনিরুজ্জামানের বোন ফাতেমা জানান, সন্তানসম্ভবা ভাতিজিকে দেখতে শুক্রবার তিনি ভাইয়ের বাড়িতে যান। রাতে ভাই ও ভাবি ঘরের মেঝেতে এবং তিনি খাটে ঘুমান। সকালে ঘুম ভাঙার পর তাদের ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পেছনে গাছে ভাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ এবং কিছুক্ষণ পর মাঠে ভাবির মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, রাতে কোনো পারিবারিক অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। মনিরুজ্জামানের মেয়ে মনিরা বলেন, ‘আমার বাবা-মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই।’ বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এটি হত্যা না আত্মহত্যা বলা যাচ্ছে না। তবে নিহত নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’ বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য যশোর পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে বলা যাবে তারা হত্যার শিকার কি না। উল্লেখ্য, গত ৬ দিনে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে ৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়