আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে বা রোজার আগে নির্বাচন হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় সারা দেশে একটি নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী গণযোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবেও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রার্থী বাছাই, জোট গঠনসহ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে নানা রকম কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও আড্ডায়-আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচন। কিন্তু এরই মধ্যে শঙ্কার কালো মেঘও দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে।
গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ধারণা দিয়েছিলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পায়। এর ভিত্তিতেই সারা দেশে একটি নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু সেই ঘোষণাকে ভালোভাবে নেয়নি জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও কয়েকটি ইসলামী দল।
জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে যৌথ বিবৃতি দেওয়া এবং নির্বাচনের সময় ঘোষণার মাধ্যমে তিনি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিদেশের মাটিতে নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করে ‘দেশকে পেছনের দিকে’ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে জামায়াতের মতোই যৌথ বিবৃতির বিষয়ে আপত্তি জানায়। তবে দেশের বেশির ভাগ দলই লন্ডন বৈঠকের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন মেনে নিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমাদের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার দরকার। এগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো যত দ্রুত একমত হবে, তত দ্রুত নির্বাচন হবে।’ তাহলে তো নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে ‘যদি, কিন্তু’ থেকেই যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। ‘যদি-কিন্তু’ থাকবেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ মনে করেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয়, সন্দেহ দূর হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা কী চাচ্ছেন, তা এখনো আমাদের কাছে পরিষ্কার না। উনাকে ঠিক বুঝতে পারছি না। সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি বলতে তিনি কতটা অগ্রগতি চান, তা-ও স্পষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার নেই।’ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
জাতির প্রত্যাশা আঘাত পায় এমন কোনো পদক্ষেপ আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা আশা করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করার বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।
