২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা, আহত ১০ সাংবাদিক

আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা
নেশাখোর সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসররা। সোমবার (৩০ জুন) বেলা ১২ টার দিকে পৌরদিঘীর পাড়ে অবস্থিত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে তারা হমালা করতে আসে। এসময় দখল করতে আসা বাহিনীদের প্রতিহত করতে যেয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক। আর এই দখলদারিত্বের মদত দিয়েছেন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত আবুল কালাম আজাদ ও কল্যাণ ব্যাণার্জী।
জানা যায়, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের মোঃ আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারীর নেতৃত্বে প্রেসক্লাব শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করতে আবুল কালাম আজাদ ও কল্যাণ ব্যাণার্জি এই কমিটির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা বাইরের কোন এক অজ্ঞাত স্থান থেকে সাংবাদিক আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে একটি প্রেসক্লাবের তথাকথিত কমিটি ঘোষনা করেন গত ১৬ মে। এই কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নেশাখোর ও সন্ত্রাসীদের স্থান দিয়ে মূল প্রেসক্লাব দখলের পায়তারা করতে থাকে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে বেলা ১২ টার দিকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করতে আসে। এসময় যুবলীগ নেতা জি,এম জিন্নাহ, এম বেলাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা লিটু, তাঁতীলীগ নেতা বাবলু, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ নেতা হাবিবুল বাশার ফরহাদ, সাতক্ষীরা জেলা সৈনিকলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম ওরফে থাই কালাম, সন্ত্রাসী আমিনুর রহমানসহ ৩০ জনের অধিক সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এসময় প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকরা তাদের বাধা দেয়। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হলে দখল করতে আসা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উপর লাঠি সোটা নিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। লাঞ্ছিত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকেজন সাংবাদিক। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এঘটনার কিছু সময় পর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আবারো দলবদ্ধ হয়ে প্রেসক্লাব দখল করতে আসে। তবে, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে তারা আবারো পিছিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সন্ত্রাসীদের হামলায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শাওন, আল ইমরান, অমিত কুমার ঘোষসহ কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। এদিকে, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহল ও সুধী সমাজ। তারা অনতিবিলম্বে আবুল কাশেম, আসাদ, নেপথ্যে থাকা আবুল কালাম আজাদ, কল্যাণ ব্যাণার্জীসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়