নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর ও চৌগাছায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) যশোর জেলা কার্যালয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জড়িত দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে মণিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে “আপো হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়” নামক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সুশীল কুমার দাসকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম। অভিযোগ রয়েছে, সুশীল কুমার দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুমোদন ছাড়া প্রায় ৫০-৬০টি শাখা খুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সনদ বাণিজ্য করে আসছিলেন। এ অপরাধে তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অপরদিকে একইদিন চৌগাছা পৌরসভার কুঠিপাড়া মোড়ে “রায়হান হোমিও হল” নামক চেম্বারে অভিযান চালিয়ে ভুয়া হোমিও চিকিৎসক মো.জহির রায়হানকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান ও আরএমও ইসরাত জাহান। জানা যায়, জহির রায়হান নামমাত্র একটি প্যারামেডিকেল কোর্সের সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার চালিয়ে আসছিলেন। তার চেম্বার শুধুমাত্র চৌগাছাতেই নয়, বরং ঝিকরগাছার গদখালী, কাগজপুর, কাজিরহাট ও বালুন্ডা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকাতেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে চালু ছিল। তাকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৩-এর ৩৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে এবং অনুমোদনহীন চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
