তারিক হাসান বিপুল
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্তত ১৩টি অবৈধ ফিজিওথেরাপি সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা কয়েকজন অপ্রশিক্ষিত কর্মীকে দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, যার ফলে উপকারের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন রোগীরা। হাসপাতালের ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশ করে এসব সেন্টারের কর্মীরা ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে। কর্তৃপক্ষ বারবার নিষেধাজ্ঞা ও পোস্টারিং করেও থেরাপিস্টদের প্রবেশ ঠেকাতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে গেল চরম অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ডের দখল নিয়ে দুপক্ষের বিরোধে চামেলী আক্তার পাখি (২৫) নামে এক নারী কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাখি যশোর সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের নওশের আলী গাজীর মেয়ে। তিনি কথিত শাহজালাল ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কর্মী। তিনি জানান, এক রোগীকে দেখতে গিয়ে কথিত মেঘলা ফিজিওথেরাপির মালিক দাবিদার গোলাম রসুলের হামলার শিকার হন। পাখিকে উদ্ধার করে সহকর্মীরা জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ড নং-১০, বেড নং-২৭-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার মা কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রসুল বলেন, “ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে পাখি খারাপ আচরণ করায় তাকে মারতে বাধ্য হই।” তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতালের এক কর্মচারীর মাধ্যমে তিনি ওয়ার্ড ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে কথিত কয়েকটি ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠানের দখলদারিত্ব রয়েছে। পুরুষ-মহিলা বিভিন্ন ওয়ার্ড নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের মধ্যে ভাগ করা রয়েছে। এ দখল নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। এসবের নেপথ্যে হাসপাতালেরই এক কর্মচারী মুছা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিজিওথেরাপি সেন্টারগুলোর এ ধরনের অনুপ্রবেশ ও দৌরাত্ম্যের কারণে সেবিকারা ঠিকভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ড ইনচার্জরা অর্থের বিনিময়ে এসব কর্মীদের ঢুকতে দিচ্ছেন, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। বৃহস্পতিবার ভোরেও মেঘনা ও শাহজালাল ফিজিও সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে ওয়ার্ড দখল নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই সেন্টারের মালিকদের মধ্যে হাসপাতালের মধ্যেই মারামারি হয়। এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, “সরকারি হাসপাতালে বহিরাগত ফিজিওথেরাপিস্টের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি আগেও এসব কথিত ফিজিওথেরাপি কর্মীদের নিষেধ করেছি। এবার পুলিশকে বলেছি কড়া পদক্ষেপ নিতে। কাউকে হাসপাতালে এসে এভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে না।” কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, “অভিযোগ হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, অভিযুক্ত গোলাম রসুলও নিজেকি রক্ষার জন্য বাচ্চু এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে।
