১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হাওয়া বইছে নির্বাচনের পালে

দেশে একটি নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা এমন ধারণা দিয়েছেন। কিছু রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে।প্রার্থীরা এবং দলও নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছে। আবার বিভিন্ন দলের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা তুলে ধরছেন। তাই বলা যায়, নির্বাচনের পালে বেশ জোরেশোরেই হাওয়া লাগতে শুরু করেছে।
প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে দ্বিতীয়বারের মতো সমন্বয়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্ব্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার সেনা সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।
সেপ্টেম্বর থেকে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে অক্টোবর ও নভেম্বর পর্যন্ত। নির্বাচনের সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে গুজব ও ভুয়া তথ্য রোধে একটি ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠনের চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। এর আগে গত ৯ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত রবিবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঘোষণা করবেন। কারো মতে, ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে এই ঘোষণা আসতে পারে। ফলে নির্বাচন যে হচ্ছে এবং তা যে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হচ্ছে, তা প্রায় নিশ্চিত—এমনটা ধরে নেওয়া যাচ্ছে। যদিও দু-একটি দল এখনো নির্বাচনের পদ্ধতি এবং সংস্কার ও বিচারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে। বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত লন্ডন বৈঠকের ভিত্তিতে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট মাস ও দিন-তারিখ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে বার্তা দেননি। এ কারণেই নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে আমি আশা করি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে, ৫ আগস্টের আগেই তিনি বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করবেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে তাঁর বার্তা দেবেন। এটি হলে ধোঁয়াশা কেটে যাবে।’ তিনি আশা করেন, এবারের নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যাতে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচনকে অনুসরণ করে।
আমরা আশা করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়