প্রতিদিনের ডেস্ক
চ্যাটজিপিটির কাছে মানুষ এখন রেসিপি বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সাহায্যও চাইছে। তবে অতিসংবেদনশীল বিষয়ে আর সরাসরি পরামর্শ দেবে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা মানসিক সংকটের মতো বিষয়গুলোয় প্রযুক্তিটি এখন থেকে কোনো সিদ্ধান্তমূলক উত্তর দেবে না বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবহারকারী যদি প্রশ্ন করেন, ‘আমার কি আমার প্রেমিককে ছেড়ে দেয়া উচিত?’ চ্যাটজিপিটি আগে সরাসরি উত্তর দিয়েছে। এমনও হয়েছে, সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পরামর্শ দিয়েছে চ্যাটবটটি। কিন্তু এখন চ্যাটবটটি আর তা করবে না। বরং ব্যবহারকারীর নিজেকেই চিন্তা করতে এবং বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে।প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ পরিবর্তনের কারণ চ্যাটজিপিটির সাম্প্রতিক আচরণ। কিছু আপডেটের ফলে এটি অনেক সময় ব্যবহারকারীর সঙ্গে অতিরিক্ত একমত হয়ে যাচ্ছে বা অপ্রয়োজনীয় সহানুভূতি দেখাচ্ছে।এক উদাহরণে দেখা গেছে, একজন ব্যবহারকারী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছেন এবং একই সঙ্গে নিজের পরিবারকে ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ তার বিশ্বাস, দেয়াল থেকে রেডিও সিগন্যাল আসছে। এমন ‘বিভ্রান্তিকর’ অবস্থায়ও চ্যাটজিপিটি তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
ওপেনএআই বলছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে বিভ্রান্তি ও মানসিক সমস্যাকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে চ্যাটজিপিটি। এ কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি টুল নিয়ে কাজ করছে, যা মানসিক চাপ বা আবেগজনিত সংকট শনাক্ত করতে পারবে। এছাড়া প্রয়োজনে ব্যবহারকারীকে প্রমাণভিত্তিক সহায়তা পাওয়ার উপায় দেখাবে।যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এনএইচএসের কয়েকজন চিকিৎসক গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানসিকভাবে অসুস্থ বা ব্যবহারকারীদের বিভ্রম এআই কখনো কখনো আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের প্রধান লক্ষ্য এমন একটি চ্যাটবট তৈরি করা, যার ওপর মানুষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আমাদের প্রিয় মানুষগুলো যদি সাহায্যের জন্য চ্যাটজিপিটির কাছে যায়, তাহলে কি আমরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারব? এ প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।’

