দেশ এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী। রাজনৈতিক অঙ্গনে শুধু নয়, সাধারণ মানুষের আড্ডায়-আলোচনায়ও মুখ্য বিষয় এখন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশনের টক শো, গোলটেবিল, সভা-সেমিনার, সর্বত্রই এখন আলোচনার প্রধান বিষয় নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে নির্বাচন নিয়ে সামান্য যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা-ও কেটে গেছে। দু-একটি রাজনৈতিক দল এখনো কিছু শর্ত দিচ্ছে এবং শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন বর্জন করার হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় বা দর-কষাকষির কৌশল হিসেবেই দেখছেন। বিভিন্ন সূত্র মতে, মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী বাছাই ও অন্যান্য নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক জোট গঠনে এখন অনেক বেশি তৎপর। নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মূলত তিনটি জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলেছে। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী ১২ দল, সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে বিএনপির জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত। যত দূর জানা যায়, এই জোটে আরো কয়েকটি দল অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে এটি প্রায় নিশ্চিত যে বিএনপি কোনোক্রমেই আগামী নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাবে না। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলামের মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন অংশ নিয়ে জোট বাঁধার বিষয়ে অনেকটাই ইতিবাচক বলে জানা গেছে। এর বাইরে এনসিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ আরো কয়েকটি দল পৃথক জোট গঠনেরও চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই জোট বিএনপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি মনে করা হচ্ছে। আর তা অনেকটাই নির্ভর করবে আসন সমঝোতার ওপর। জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। বিএনপি জোটসঙ্গীদের ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। কিন্তু এনসিপি ৩০টি আসন নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দর-কষাকষি করছে বলেও জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রধান তিনটি জোটের বাইরে একটি মেরুকরণের প্রতিও ইঙ্গিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক সহযোগী জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আর তাদের সঙ্গে নির্বাচনে যুক্ত হতে পারেন দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সে ক্ষেত্রে অঞ্চলবিশেষে হলেও জাতীয় পার্টি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একেবারেই কোনো আশঙ্কা নেই এমনটিও মনে করছেন না অনেকে। শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা শুনি, বিশ্বাসও করতে চাই যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া, ভোটগণনা, ফলাফলের আগমুহূর্ত পর্যন্ত জাতির কাছে একটা সংশয় আছে।’ গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার বা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে আমরা কোনো শঙ্কা দেখতে চাই না। আমরা আশা করি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী।
দেশ এখন নির্বাচনমুখী
Previous article
Next article
আরো দেখুন
সংকটে আবাসনশিল্প
বসবাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বে প্রায় সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার এমন অবস্থানের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ।...
বটিয়াঘাটার কচুবুনিয়া বেড়িবাঁধ হুমকি মুখে
বটিয়াঘাটা সংবাদদাতা
বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের জলমা-কচুবুনিয়া সংলগ্ন এলাকায় শহর রক্ষা বেড়িবাঁধসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকির মুখে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট...
