উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুদের টাকা লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। রবিবার সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সোনার মোড় মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে আহতরা হলেন, উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর এলাকার মৃত কাশিনাথ সরকারের ছেলে অমল কুমার সরকার (৪৫), বিমল কুমার সরকার (৫০), সুশান্ত কুমার সরকার (৩৬), একই এলাকার মৃত আহাদ আলী গাজী ছেলে মজিবর গাজী (৬২), তার ছেলে (মুজিবার গাজীর) আলম গাজী (৩৫) ও শ্রীফলকাটি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম (৩৬)।এরমধ্যে গুরুতর আহত অমল কুমার সরকারকে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এরপর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষের বাকি পাঁচজন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।এবিষয়ে সোনার মোড় এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২০ বছর আগে সোনার মোড় এলাকার মজিবর গাজীর কাছ থেকে বংশীপুর এলাকার সরকার পাড়া গ্রামের বিমল সরকার সুদে টাকা নেন। সেই সুদের টাকা লেনদেন নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সকালে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় মুজিবার গাজী বিমল সরকারের কাছে সুদের টাকা দাবি করলে বিমল সরকার টাকা অনেক আগে পরিশোধ হয়ে গেছে জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অমল কুমার সরকার নামের একজন গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এরপর সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সংঘর্ষের ঘটনায় হামলার শিকার আমল ও বিমলের ভাই সুশান্ত সরকার বলেন, আমার দাদা বিমলের সাথে মজিবরের লেনদেন ছিলো এখানে থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। আমরা স্থানীয় সালিশি মিমাংসার মাধ্যমে সেই টাকা ১৭/১৮ বছর আগে পরিশোধ করি। সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমানের মাধ্যমে সে সময় লেনদেনের মিমাংসা হয়। এখন হঠাৎ করে আমাদের কাছে টাকা চাচ্ছে। সকালে আমার দাদা বিমল সরকারের কাছে টাকা চাইলে দাদা বলেন আমি টাকা তো অনেক আগেই পরিশোধ করেছিলাম এখন কিসের টাকা দেবো। তখন তার উপর মজিবর গাজী ও তার ছেলে আলম গাজীর নেতৃত্বে ৫/৭ জন হামলা করে। আমার আরেক ভাই অমল ও আমি ঠেকাতে গেলে আমাদের উপরেও হামলা করে তারা।তবে অভিযুক্ত মুজিবর গাজী তাদের ওপরে হামলা হয়েছে দাবি করে বলেন, আমি গত ১৬/১৭ বছর আগে বিমল সরকারের কাছে ৯০ হাজার টাকা পেতাম। দীর্ঘদিন আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকার কারনে আমার পাওনা টাকা সে দেয়নি। যার ডকুমেন্ট আছে আমার কাছে। সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে। তার ভাই ব্রাদারসহ আমার উপর অতর্কিত হামলা করে তখন আমার জামাতা কামাল ও আমার বড় পুত্র আলম গাজী উদ্ধার করতে আসলে তাদের উপরেও হামলা করে তারা। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

