উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের পাশাপাশি বেগুন, টমেটো, বরবটি, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে- প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন ১৩০ থেকে ১৪০, ওল ৮০ থেকে ১০০, করলা ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ৬০ থেকে ৮০, লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ১০০, পটল ৫০ থেকে ৬০, ঝিঙে ৮০ থেকে ১০০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০, রসুন ১০০ থেকে ১২০ এবং আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় উঠেছে।
সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মুরগি, ডিম ও মাছের দামও। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। একইসঙ্গে বেড়েছে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম। ডিমের প্রকারভেদে ডজনপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে মাছের বাজার আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের জনপ্রিয় মাছ পাঙাশ এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। এক কেজি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায়, আর বাটা, কাতলা, মৃগেল ও তেলাপিয়াসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। রাজগঞ্জের মোবারকপুর গ্রাম থেকে মাছ কিনতে আসা মনা নামের এক ক্রেতা বলেন- এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে মাছ খাওয়ার স্বপ্নই বাদ দিতে হবে। কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে আড়ত থেকে খুচরা পর্যন্ত দামের পার্থক্য কয়েক গুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। রাজগঞ্জ বাজারের আড়তদার ব্যবসায়ীরা বলেন- অধিকাংশ মাছের ঘের বন্যায় তলিয়ে গেছে। এখন যেসব সবজি বাজারে আসছে, তা মূলত বাইরের থেকে আসছে। পরিবহণ ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে দামে চাপ পড়ছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে রাজগঞ্জের চালুয়াহাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম মারুফুল হক বলেন- অতিবৃষ্টিতে কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবজির উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে স্থানীয়ভাবে সবজির সরবরাহ বাড়বে, তখন বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছি।
