সারা দেশে নির্বাচনী হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। মানুষের আলোচনায়ও এখন আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি। নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দু-একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আবারও জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং সে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর।
জাতীয় নির্বাচন ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে গত রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই তিনটি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি যে কথা বলেছেন, সেই অনুযায়ী নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচনের কোনো বিকল্প নিয়ে ভাবেন, সেটি জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক হবে।’কিছু দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সঙ্গে বিচার, সংস্কার, সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতি, গণপরিষদ এবং এমনই নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান ধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও এগুলোকে ভালো চোখে দেখছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার ও সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে আরো অনেক সময় রয়েছে। এর মধ্যে বিচার ও সংস্কার অনেক এগিয়েছে এবং আরো এগোবে। কিন্তু সে জন্য অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল টেনে নেওয়া ঠিক হবে না।তা ছাড়া সংস্কার ও বিচার চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচিত সরকার সেসব এগিয়ে নেবে। আর পিআর পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য যে ধরনের ঐকমত্য দরকার, তা নেই। ফলে আগামী নির্বাচনে সেই পদ্ধতি অবলম্বনের সুযোগ নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যথার্থই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। তবে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। রবিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, “রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা জটিল হয়ে উঠছে কিংবা জটিল করে তোলা হচ্ছে। এখন সময় আত্মজিজ্ঞাসার। যদি বলা হয়, ‘নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না’, তাহলে সেটি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করবে, নাকি পরাজিত অপশক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করবে?”
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের পথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে।
