নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্ধকার নামছিল যশোর শহরে। ব্যস্ততম চাঁচড়া চেকপোস্টের ভিড়ের মধ্যেই এক নারীর চলাফেরায় সন্দেহ জাগে পুলিশের। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীর কাঁধের ছোট্ট ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৮০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। আটক হওয়া নারী মাসুরা বেগম ঝিকরগাছার গদখালী সদিরালী গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর মেয়ে। প্রথমে নির্দোষ দাবি করলেও পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে ব্যাগে ট্যাবলেট থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, তারা প্রথমে বিষয়টি টেরই পাননি।পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদনে জানা গেছে, যশোরসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট নারী ও শিশুদের বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করছে। অনলাইনে বা মোবাইল অ্যাপে অর্ডার হয় মাদক, পরে তা পৌঁছে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট ঠিকানায়। সামাজিক আড়াল ও সহানুভূতির সুযোগ নিয়ে নিরাপদে এই কারবার চালাচ্ছে সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও বড় সিন্ডিকেট ধরা পড়ছে না। এ কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অনৈতিক সুবিধাভোগীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। শহরবাসীর প্রশ্ন মাসুরা বেগম কি শুধু বাহক, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো চক্র? পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে মানুষের শঙ্কা, প্রতিদিন যদি ভ্যানিটি ব্যাগ বা স্কুলব্যাগে করে শহরে ঢোকে মাদক, তাহলে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
