১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জেন-জি’র বিজয় : নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

প্রতিদিনের ডেস্ক
তীব্র জনরোষের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। কিছুক্ষণ আগে তিনি টেলিভিশনে দেয়া বিবৃতিতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ খবরে আনন্দে ভাসছে নেপাল। পদত্যাগ করার পর ওলি’র ভবিষ্যত কি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে মিডিয়ায় একটি কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। তাহলো তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। আশ্রয় নিতে পারেন অন্য কোনো দেশে। যদি তা-ই হয়, তাহলে তিনি বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মতো পরিণতি ভোগ করতে পারেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওলি বলেছেন, তিনি সাংবিধানিক সমাধানের পথ তৈরি করে দেয়ার জন্য পদত্যাগ করছেন। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেয় বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপির বাসভবনে। এ অবস্থায় দেশটির আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল অচল হয়ে গেছে। আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মঙ্গলবার সানেপায় শাসকদল নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জেন-জি আন্দোলনকারীরা। আগুনে পুড়ছে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ব্যক্তিগত বাসভবন। দাউ দাউ জ্বলছে আরও মন্ত্রী, এমপিদের বাসভবন। বিক্ষোভকারীদের এখন একটাই দাবি পদত্যাগ করতে হবে প্রধানমন্ত্রী ওলি’কে। কিন্তু এক বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষোভের আগুন কিছুতেই প্রশমিত হয়নি। কারফিউ ভঙ্গ করে বিভিন্ন শহরে নেমে পড়েছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ওলি’র পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে প্রভাবশালী পত্রিকা কাঠমান্ডু পোস্ট। অনলাইন এনডিটিভি বলছে, এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষি বিষয়ক মন্ত্রী সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন বা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেলের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে মন্ত্রী আরজু রানা দেউবা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাকের বাড়িতে। জ্বলছে যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রী পৃথ্বি শুভ গুরুংয়ের বাসভবন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর বাইরে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। কাঠমান্ডু পোস্ট আরও বলছে, সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে ১৯ তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর থেকেই এ আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করে। এ ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে দুর্নীতি ও কুশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ সড়ক বিক্ষোভ হিসেবে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে তা সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি ও বড় বড় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কাঠমান্ডু উপত্যকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। অশান্তি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।


দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের জেরে এবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওডেল। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন কেপি শর্মা ওলি। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। এতে বলা হয়, সহিংসতায় দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। লুটপাট করা হয় বাসভবনের বিভিন্ন মালামাল। একইভাবে কেপি শর্মা ওলির ব্যক্তিগত বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন একাধিক শীর্ষ রাজনীতিক। সোমবার পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পাওডেলকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও হামলা হয়েছে, যেখানে দেউবা ও তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর কেপি শর্মা ওলি নাকি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রীর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। তবে এক বিবৃতিতে অলি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি সকল দলের সমন্বয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় অল-পার্টি বৈঠক আহ্বান করেছেন। তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে, পরিস্থিতির অবনতিতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই তাদের নাগরিকদের নেপালে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। নেপালে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য জারি করা হয়েছে সতর্কতা। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘরেই থাকার এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বাসভবনেও আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা দেশটির অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পুডেলকে রাস্তায় ধাওয়া দেন এবং মারধরও করেন। দেশটিতে সোমবারের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থীসহ ১৯ জন প্রাণ হারান। এর পরেই আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে সরকার সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুললেও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ মূল দাবিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন দল, এমনকি ওলির মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও এ দাবিতে সংহতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। এদিন বিক্ষোভকারীরা একের পর এক মন্ত্রী ও রাজনীতিকের বাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর শুরু করেন। দুপুর থেকে সেনাবাহিনী সব মন্ত্রী ও বড় বড় দলের শীর্ষ নেতাদের তাদের বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। তাদেরকে অজ্ঞাত সেনাঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

নেপালে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ কানালের স্ত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডুর দালু এলাকায় ঝালানাথ কানালের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন জেন-জি বিক্ষোভকারীরা। এতে দগ্ধ হন তার স্ত্রী রাজিয়ালাক্সমি চিত্রকর। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাকে উদ্ধার করে কৃতিপুর বার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নেপালে সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন মঙ্গলবার আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

নেপালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ও তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবা। জেন-জি বিক্ষোভকারীদের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর বুদানিলকান্ত এলাকায় দেউবার বাসভবনে ঢুকে পড়েন আন্দোলনকারীরা। হামলার পরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে রক্ত ঝরছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলন সোমবার সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান শিক্ষার্থীসহ ১৯ জন। এর পরেই আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে সরকার সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুললেও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ মূল দাবিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন দল, এমনকি ওলির মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও এ দাবিতে সংহতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। এদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বাসভবনেও আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা দেশটির অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পুডেলকে রাস্তায় ধাওয়া দেন এবং মারধরও করেন। বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ কানালের স্ত্রীর মৃত্যুর খবরও দিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়