১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোল দিয়ে ভারতে প্রথম চালানে ইলিশ গেল ৩৭ টন

আনিছুর রহমান, বেনাপোল
সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপক্ষেে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশী ইলিশ রফতানি হয়েছে। বাংলাদেশে থেকে এবছর ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম চালান হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। বেনাপোল স্থল বন্দরের মৎস্য পরিদর্শক সজীব সাহা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ছয়টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইলিশের প্রথম চালান ভারতে যায়। মান যাচাই করে ইলিশগুলো রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রথম চালানে যে ইলিশগুলো পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর রফতানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৫২৫ টাকা। বাংলাদেশ থেকে ‘সততা ফিশ, ‘স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, ‘তানিশা এন্টারপ্রাইজ’, ‘বিশ্বাস ট্রেডার্স’ এবং ‘লাকি ট্রেডিং’ এই ইলিশ রফতানি করেছে। অন্যদিকে, ভারতের কলকাতার পাঁচটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ট্রেডিং’, ‘এফএনএস ফিশ’, ‘জয় শান্তসী’, ‘মা ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘আর জে ইন্টারন্যাশনাল’ এসব ইলিশ আমদানি করেছে। রফতানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিশ রফতানির অনুমতি পাওয়ায় আমরা খুশি। এর মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’ ইলিশ রপ্তানি একসময় উন্মুক্ত থাকলেও, ২০১২ সালে উৎপাদন সংকটের কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। গত বছর ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হলেও বেনাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ টন। এবার সরকার মোট ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। দুর্গাপুঝা উপলক্ষে চলতি বছর ভারতে রপ্তানির জন্য ২৭ টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ৫০ টান এবং ২৫ টি প্রতিষ্ঠান ৩০ টন করে মোট ৭৫০ টন। ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে ৩৬০টান এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ৪০ টন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়