প্রতিদিনের ডেস্ক
পৃথিবীর অন্যতম অদ্ভুত স্থানের মধ্যে একটি ডেড সি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভূগর্ভে লবণের স্তর জমে জমে কীভাবে লবণের পাহাড় গঠিত হয় সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদেরকে নতুন ধারণা দিয়েছে পৃথিবী পৃষ্ঠের সবচেয়ে নিচু স্থানে থাকা ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার জন্য পরিচিত এ গভীর লবণাক্ত হ্রদটি। গবেষকরা বলছেন, এটি বিস্ময়কর। কারণ, সাধারণত লবণ ঠান্ডা পরিবেশে বেশি স্ফটিক আকারে জমে। তবে গরমে বাষ্পীভবনের কারণে উপরের পানির লবণাক্ততা বেড়ে যায় ও উপরের উষ্ণ স্তর আরও বেশি লবণ দ্রবীভূত রাখতে পারে। এ কারণেই সেখানে ‘ডবল ডিফিউশন’ নামের এক বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়। গরম ও লবণাক্ত পানি ঠান্ডা হয়ে নিচে নামে, আর তুলনামূলক ঠান্ডা পানি উপরে উঠে গরম হয়। যখন উপরের স্তর ঠান্ডা হয় তখন অতিরিক্ত লবণ স্ফটিক হিসেবে গঠিত হতে শুরু করে ও নিচে পড়ে যায়। এ চলমান লবণের তুষারপাত, যা ঋতু পরিবর্তন, বাষ্পীভবন ও হ্রদের প্রবাহের সঙ্গে মিলে ঘটে ও এর মাধ্যমে লবণের বিভিন্ন বড় বড় স্তর ধীরে ধীরে কী ভাবে তৈরি হয় তার ব্যাখ্যা মিলেছে। বিজ্ঞানীদের জন্য এ এক বিরল সুযোগ, যেখানে এই ভূতাত্ত্বিক দৈত্যদের কার্যকলাপের দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন তারা। কোটি কোটি বছর আগে ভূমধ্যসাগরেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা পৃথিবীর অন্যতম পুরু লবণের স্তর গঠনে সাহায্য করেছিল। ওই সময় ভূমধ্যসাগর শুকিয়ে গিয়েছিল, যাকে ‘মেসিনিয়ান স্যালিনিটি ক্রাইসিস’ বলা হয়। পরে জিব্রালটার প্রণালী আবার খুলে গেলে ভূমধ্যসাগর পুনরায় পানিতে ভরে যায় ও পুরু লবণের বিভিন্ন স্তর গভীরেই থেকে যায়। ডেড সি’র পানির নিচের ঝর্ণা ও পরিবর্তিত লবণের বিভিন্ন স্তর অদ্ভুত আকৃতির লবণ চিমনি ও গম্বুজ তৈরিতেও সাহায্য করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নোরিজ। এসব প্রক্রিয়া গবেষণা করে কেবল প্রাচীন ভূতত্ত্বই নয়, বরং আধুনিক কিছু চ্যালেঞ্জ যেমন শুষ্ক অঞ্চলে উপকূল ক্ষয় ও পরিবেশবান্ধবভাবে লবণ সংগ্রহের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে চান বিজ্ঞানীরা।

