নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করার দাবিসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও ক্লাস নিচ্ছেন না। কেউ কেউ শিক্ষক কক্ষে সময় কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা ও গল্পে মেতে রয়েছে। যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন এবং দ্রুত দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। হামিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি ও হামিদপুর আল-হেরা কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম রাতদিন নিউজকে বলেন, “আমরা যে পরিমাণ বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে পুলিশের বিনা উসকানিতে শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ গুরুতর অপরাধ। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু শিক্ষকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, মাত্র ৫০০ টাকা বাড়ানো ‘লজ্জাজনক’; বরং মূল বেতনের অন্তত ২০ শতাংশ হারে (ন্যূনতম তিন হাজার টাকা) বাড়িভাড়া দিতে হবে। এছাড়া শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে তিন দফা আন্দোলন শুরু করেছেন। গত রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ডাকে হাজারো শিক্ষক লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন বহু শিক্ষক। এর প্রতিবাদে সারাদেশে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়েছে যশোরেও।

