নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের পোস্টঅফিস পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে কেউ না থাকার সুযোগে সোনার বিভিন্ন গহনা ও আইপ্যাড চুরি করেছে এক নারী গৃহকর্মী। ভেঙে চুরির বিষয়টি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর একপর্যায়ে ওই গৃহকর্মী তা স্বীকারও করেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে টাকা ফেরতের আশ্বাসও দিয়েছিলেন, কিন্তু খোয়া যাওয়া মালামাল ফেরত না দিয়ে নানা তালবাহানা ও হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এসব অভিযোগ এনে বাধ্য হয়ে গৃহকর্তা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার আদালতে মামলা করেছেন।আসামিরা হলেন,গৃহকর্মী চাঁচড়া বেড়বাড়ি গ্রামের রাজিয়া পারভীন নীলা ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন। বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন,তিনি পোস্টাফিস পাড়ায় একটি বিল্ডিং এ চারতলায় ভাড়া থাকেন। দেড় বছর ধরে নীলা তার বাড়িতে কাজ করেন। গত পহেলা সেপ্টেম্বর তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। বাড়ির এক সেট চাবি ছিল নীলার কাছে। ওই দিন রাত ১১টায় বাসায় এসে দেখেন ঘরের ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা। সেখানে রাখা সোনার চুড়ি, কানেরদুল, চেইন নেই। এছাড়া ঘরে থাকা একটি আইপ্যাডও নেই। এসবের দাম প্রায় পাঁচলাখ টাকা। পরে ঘরের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে যে নীলা ঘরে ঢুকে কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়। ২ সেপ্টেম্বর বাড়িতে কাজ করতে আসলে নীলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে সবই অস্বীকার করেন। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখালে ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর স্থানীয়রা একত্রিত হন এবং নীলার স্বামী জসিমকে খবর দিলে তিনিও আসেন। একপর্যায়ে তারা লিখিতভাবে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন যে, এক মাসের মধ্যে খোয়া মালালাম বাবদ তারা দুই লাখ টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু এক মাস পার হলেও আজও টাকা ফেরত দেননি। এমনকি তারা নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। একই সাথে মিথ্যা মামলারও ভয় দেখাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে মনির আদালতে মামলা করেন। এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী রুহিন বালুজ বলেন, নীলা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া আসামিরা মনিরুলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তারা আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিচারক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

