১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমী কক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

মঈন উদ্দিন খান, কোটচাঁদপুর
বছর ১০ মাসেও শেষ হয়নি কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমীর নির্মাণাধীন ভবনের কাজ। কক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন সায়েন্স ল্যাব,কমন রুম আর কম্পিউটার ল্যাবে। দ্রুত রি-টেন্ডার করে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমী। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টিত হয় ১৯৬০ সালে। সে থেকে সুনামের সাথে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রয়েছে ৬ শ ৫০ জন। এ সব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১৮ থেকে ২০ টি কক্ষের প্রয়োজন থাকলেও বিদ্যালয়ে আছে ১৪ টি কক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কমন রুম,সাইন্স ল্যাব,কম্পিউটার ল্যাব ও শিক্ষকদের অফিস।
এতে করে প্রয়োজন হয়ে পড়ে কক্ষের। যা পাবার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এর পেক্ষিতে ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৮০ লাখ টাকার ৪ র্থ তলা একাডেমীক ভবন পান প্রতিষ্ঠানটি। যার ১ম তলার নির্মান কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি। এরপর থেকে কাজটি বেশ কয়েক বার বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি কাজটি বাতিল করেছেন জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরপর তা রি-টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় আছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কক্ষ সংকটে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হারিয়েছেন শিক্ষার পরিবেশ। ক্লাস করছেন,ল্যাব,কমন রুম আর কম্পিউটার ল্যাবে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র সিয়াম আহম্মেদ ও অনন্ত ঘোষ বলেন,কক্ষ সংকটের কারনে আমাদের বসার তেমন জায়গা নাই। ভালভাবে বসতে না পারায় ক্লাস করতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, কক্ষ সংকটের কারনে আমাদের ক্লাস করতে হয় কখনও কমন রুমে,কখনও সায়েন্স ল্যাবে। আবার কখনও কম্পিউটার ল্যাবে। একই অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের অন্য শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা ও । তারা দ্রুত নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ করে,তাদের কক্ষ সংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টি সাড়ে ছয়শ শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজন ১৮/২০ টি কক্ষ। তবে আছে মাত্র ১৪ টি। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয় ল্যাব,কমন রুম ও কম্পিউটার ল্যাবে। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। যার পেক্ষিতে ভবনও পেয়েছিলাম। তবে কাজ না শেষ হওয়ায় ভোগান্তির মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল বলেন,কাজটি পাওয়ার পর থেকে তাদের গুরুত্ব কম ছিল। তারা কিছু কাজ করে বন্ধ রাখেন। এরপর তাদেরকে বলার পর আবারও কাজটি শুরু করেন। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৩-১০-২০২১ সালে। এরপরও ওই ঠিকাদার কাজ না করে দীর্ঘদিন এভাবে ফেলে রাখায়,তাঁর কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজটির রি-টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়