১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চৌগাছায় পৌরসভার সৌর স্ট্রিট লাইট প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট

এম এ রহিম, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা পৌরসভায় সৌর স্ট্রিট লাইট প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তৎকালীন পৌর মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, সেসময়ের পৌর সচিব আবুল কাশেম এবং কয়েকজন কাউন্সিলররা মিলে লুটপাট চালায়। সুত্র জানায় বাজার মুল্যের থেকে কমপক্ষে ৪/৫ গুন বেশি দামে এ লাইট ক্রয় দেখানো হয়েছে। পৌরসভায় সংরক্ষিত নথিপত্র থেকে জানাযায়, স্ট্রিট লাইট প্রকল্প শুরু হয় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে। ঐ বছরে ৭৫ টি লাইট স্থাপনের জন্য বরাদ্দ করা হয় ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ৫’শ টাকা। একাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল বিডিএস এর্নাজি সোলার নামে একটি অখ্যাত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের নাম লেখা আছে বকুল হুসাইন। আর প্রতিটি লাইট স্থাপনে খরচ দেখানো হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৫’শ ৮০ টাকা। অথচ সে সময় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় উন্নতমানের লাইট স্থাপন করা সম্ভব ছিল। পরবর্তীতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২’শ ৩৮ টি লাইট স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই কোটি ৯৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪০ টাকা। একাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিন ওয়ার্কসপ নামে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানকে । এ বছরও প্রতিটি লাইট স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয় এক লাখ ২৫ হাজার ৫’শ ৮০ লাখ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১১২টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য বরাদ্দ করা হয় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয় ঢাকার ভাটারা এলাকার বিএসএল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। এ বছরে প্রতিটি লাইট স্থাপনের খরচ বৃদ্ধি পেয়ে হয় এক লাখ ৩৩ হাজার ৯’শ২৮ টাকা। এভাবে দেখা যাচ্ছে পৌরসভায় সর্বমোট ৪২৫ টি সৌর স্ট্রিট লাইট স্থাপনে মোট খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ৫’শ ৪০ টাকা। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি লাইটের স্থাপন খরচ দেখানো হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭’শ ৮০ টাকা। লাইট স্থাপনে জড়িত একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, লাইট স্থাপনের খরচ ৪/৫ গুন বেশি দেখিয়ে পুকুরচুরি করা হয়েছে। লাইট সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সুত্র বলছে আদৌ পৌর এলাকায় ৪২৫ টি লাইট স্থাপন করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কেননা ৪২৫ টি স্ট্রিট লাইট মানে প্রতি ওয়ার্ডে অন্তত ৪৭ টি লাইট স্থাপন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা চোখে পড়ে না। এদিকে কোটি কোটি টাকায় স্থাপিত লাইট গুলোর বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। স্টিল পাইপে লাইট গুলো স্থাপনের কথা থাকলেও বেশির ভাগ পোস্টে পুরাতন পাইপ রঙ করে ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে পাইপগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। আর নিম্নমানের ব্যাটারি ব্যবহার করা কারণে বেশির ভাগ লাইট এখন জ্বলে না। যেগুলো জ্বলে সেগুলোও সন্ধ্যার ২/৩ ঘন্টা পর বন্ধ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সৌর স্ট্রিট লাইট প্রকল্পটি ছিল লুটপাটের আখড়া। বর্তমানে সাবেক পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল পলাতক থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, সে সময় আমি এখানে ছিলাম না সেকারণে আমার কিছুই বলার নেই। পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের পুরো সময়টা চৌগাছা পৌরসভা ছিল একটা দূর্নীতির আখড়া। কেবল লাইট প্রকল্প নয় সকল প্রকল্পই ছিল আওয়ামী নেতাদের লুটপাটের আতুড়ঘর।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়