২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে কনস্টেবল ইলিয়াসের বিরুদ্ধে গাঁজা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থাকা অবস্থায় দুই কেজি গাঁজা ও ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কনস্টেবল ইলিয়াসের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীসহ অনেকেই দাবি করেছেনএমন গুরুতর অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকা থেকে দুই কেজি গাঁজা সহ আরিফ নামে এক আসামিকে আটক করেন কনস্টেবল ইলিয়াস। সূত্র জানায়, ওইদিন তিনি পুলিশের সোর্স সোহেল ও শ্রাবণীকে নিয়ে দুইটি মোটরসাইকেলে করে চৌগাছার মাসিলা বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সীমানায় গেলে বিজিবি সদস্যরা তাদের তল্লাশি করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে পুলেরহাট এলাকায় ফিরে আসামি আরিফকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নারী সোর্স শ্রাবণীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরিফের কাছ থেকে উদ্ধার দুই কেজি গাঁজা রেখে দেওয়া হয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আরিফকে মারধর করা হয়। শেষ পর্যন্ত আরিফ ১৫ হাজার টাকা দিতে সম্মত হলে তার স্ত্রী বেনাপোলের সর্বংহুদা বাজারের নেহাল মেডিকেল সেন্টারের বিকাশ দোকানের মাধ্যমে যশোর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে থাকা ০১৭৮১৩০৩১৩৯ নম্বরে টাকা পাঠান। এরপর ইলিয়াস আরিফকে ছেড়ে দেন।
ঘটনা জানাজানি হলে খুলনা জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) নিকুলিন চাকমা কনস্টেবল ইলিয়াসকে তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা পুলিশ লাইনে বদলি করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে এত গুরুতর ঘটনার পরও দায়সারা তদন্ত ছাড়া এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সোর্স শ্রাবণী বলেন,“ঘটনা সত্য, তবে আমার বাড়িতে কিছু ঘটেনি। যা ঘটেছে, রাস্তার ওপরই ঘটেছে।”কথা বলতে বলতে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে কনস্টেবল ইলিয়াস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান জানান,“ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তিনি ইলিয়াসকে বদলি আদেশ দিয়ে এখান থেকে বদলি করে খুলনায় নিয়ে গেছেন। আমি এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে কি হয়েছে সেটা আমি ষ বলতে পারবো না।এ ব্যাপারে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, “কনস্টেবল ইলিয়াসকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না বলে তিনি জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়