দেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুতরা নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। জুলাই যোদ্ধারা আক্রান্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই যোদ্ধাদের রক্ষার আহবান জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, ‘আমাদের তরুণদের রক্ষা করুন। তাহলে আমরা সবাই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে।’ মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কোন ধরনের রাষ্ট্র প্রত্যাশা করি, তা নির্ভর করবে গণভোটের ফলাফলের ওপর। এই ভোটের মাধ্যমে ঠিক হবে নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার গতিপথ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে আমরা পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বাদ। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাই একটি স্বাধীন দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য যুগ যুগ ধরে লড়াই-সংগ্রামে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, সেই বীর যোদ্ধা ও শহীদদের। তাঁদের এই অবদান আমাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা ও সাহস জোগায়, সব সংকট-সংগ্রামে দেখায় মুক্তির পথ।’জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সম্প্রতি যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত, আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর আঘাত।
সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’ তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ঘটিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা জানেন, জাতীয় নেত্রী, দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। এই বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই উদ্বেগের। অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার, দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান এবং তাঁর প্রতি জনগণের শ্রদ্ধাময় আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এরই মধ্যে তাঁকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। আমি দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি উন্মুক্ত আহবান জানাচ্ছি, আপনারা একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখবেন; কখনো শত্রু হিসেবে দেখবেন না।’
আমরা মনে করি, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে যেসব কথা বলেছেন, সেসব কথা দেশ ও জাতির অস্তিত্বের প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরাজিত শক্তি দেশকে যেন অস্থিতিশীল করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।

