তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ
সুন্দর সাহা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানসপুত্র, আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর জন্মভূমির মাটিতে পা রাখবেন তিনি। দিনটিতে দলের নেতাকর্মীদের লুকায়িত আবেগ-অনুভূতি উচ্ছ্বাসে প্রকাশ পাবে। প্রায় দেড় যুগ নির্বাসিত জীবন শেষে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সংবর্ধনা দিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ ও ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারের সময়ে আদালতের আদেশে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ বিএসএমএমইউ (পিজি) হাসপাতাল ঘিরে থাকা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী উৎসুক মানুষের আবেগ দেখেছি। রোজা কাতর একটি হাতের সামান্য ইশারা থেকে উঁচু জানালা দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো মুহূর্ত। ৫৪৬ দিন প্রতীক্ষার পর সন্ধ্যায় ইফতার ও নামাজের পর নেতাকর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ নেতাকে এক নজর দেখার প্রহর গুনছেন। অসুস্থ নেতা দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে কর্মীদের আবেগ গ্রহণ করে কেবল দোয়া চাইলেন। তারেক রহমান আদালত থেকে জামিন পাওয়ার সকল কাগজ পত্র নিয়ে আসেন ডিআইজি প্রিজন মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী ও তার আইনজীবী। কর্মীদের প্রত্যাশা, প্রাণপ্রিয় নেতা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাময় দেশকে উজ্জ্বল করে তুলবেন। অতীতে ক্ষমতাসীন নেতা ও তাদের সন্তানদের মতো রাজনৈতিক দাপট তারেক রহমান দেখাননি। অগণিত নেতাকর্মীর মাঝে এ বিশ্বাস ছিল এবং এখনো আছে। তাঁর মিষ্টি হাস্যোজ্জ্বল ব্যবহার, অসহিষ্ণুতার কোনো জনমত নেই।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দলটি প্রত্যাশা করছে, সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কাল ৫০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। বিএনপির শীর্ষ এই নেতাকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার থেকেই ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন ৬৩ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে দুপুর ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তার। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোডসংলগ্ন তিনশ ফিটে প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তিনি। পরে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান। এই বাসার পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় থাকেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানেরও আজ দেশে ফিরছেন। মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, অনেক বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এদিকে বিশেষ কার্যক্রম ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্য দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কায় হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি, অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশব্যাপী দল গোছানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে সাধারণ নেতাকর্মী উজ্জীবিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির সফলতায় সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত করেছিল। সরকারের সফল কর্মসূচির পাশাপাশি তারেক রহমানের দলীয় কর্মসূচি তাঁর কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষ সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে ঈর্ষাকাতর হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। দেশে-বিদেশে প্রচার-প্রপাগান্ডায় সহযোগী হয় কিছু বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মী। তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার চালায়। পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়। মিডিয়া ও সুশীল সমাজের একাংশের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ফলে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ পল্টনে সংঘর্ষে নিরীহ মানুষ হতাহত হয়। দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এমন প্রপাগান্ডা শুরু হয়। দেশ বাঁচানোর নামে জরুরি আইন জারি করে ১১ জানুয়ারি ২০০৭ ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। শুরু হয় গভীর ষড়যন্ত্রের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। দুই বৃহৎ দলের শীর্ষ নেত্রীসহ অসংখ্য রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের ভেতরে ‘সংস্কার’ নামে কার্যক্রম শুরু হয়, যা দেশ ও জনগণের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বস্তি-ফুটপাত উচ্ছেদ, হাট-বাজার উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা ভাঙা, ব্যবসায়িক সময় সীমিত করা, ট্যাক্স আদায়—এসব অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়। দলের ভেতরে ভাঙন সৃষ্টি করা হয়। জরুরি আইনে মূল স্রোতধারা আক্রমণের শিকার হয়। দলীয় প্রধান কারাগারে থাকলেও কর্মীরা অফুরন্ত আবেগ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের আবেগ-অনুভূতি পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ পায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮। তারেক রহমান বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিদায়লগ্নে হাসপাতাল ও বিমানবন্দরে মানুষের চোখের পানি দেখা যায়। হাজার হাজার মানুষের চোখের পানি, লাখ লাখ মানুষের আবেগ-অনুভূতির শেষ পরিণতি শুভ হওয়ার জন্য দরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব। তিনি মুক্তির অল্প সময়েই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পূরণ করেছেন। তিনি সার্থক মা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
২০০৮ থেকে প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রত্যাশা পূর্ণ করবেন। তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বিশ্বরোডে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশজুড়ে তৈরি করা হয়েছে এই মঞ্চ। মঙ্গলবার দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী আহমেদ। তিনি আরও জানান, দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী জানান, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী। নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলিয়েছেন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। এতে বড় অক্ষরে লেখা-‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ ইত্যাদি।

