১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চুয়াডাঙ্গাকে হটিয়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে : হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনজীবন

সৈকত হোসেন
চুয়াডাঙ্গাকে হটিয়ে শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে।যশোরে জেঁকে বসেছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে শীত আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার যশোরে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এদিনের দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরেই কুয়াশা ও উত্তরের বাতাসে বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের অনুভূতি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে, তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ শ্রমিক কাজের সন্ধানে জড়ো হলেও শীতের কারণে কাজ মিলছে না অনেকেরই। শেখহাটি এলাকার মোক্তার আলী বলেন, শীতে একদিন কাজ পাই তো, তিনদিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ হচ্ছে না। শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরবেলায় এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না। শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার রিকশাচালক স্বপন দাশ বলেন, শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা জমে যাচ্ছে। ব্রেকও ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না। আর বাসাতে মনে হচ্ছে গায়ে সুঁচ ফোটাচ্ছে। মধুপুর এলাকার নাইম হোসেন বলেন, গত তিন-চারদিন যে পরিমাণ শীত পড়ছে; তাতে বাইরে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রিকশা না চালালে ভাত জুটবে না, তাই বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যশোরে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায়। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, এদিকে যশোরের পরই তীব্র শীতে কাঁপতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা। ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে জেলাজুড়ে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শীতের দাপটে মানুষজনের চলাচল কমে গেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ডের সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, হকার ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে তাদের বের হতে হচ্ছে ঘর থেকে। শীতের তীব্রতায় শহর ও গ্রাম-উভয় এলাকাতেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বস্তি মিলছে না। শহরের হোটেল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী বলেন, ‘ভোরে কাজ শুরু করতে হয়। কিন্তু ঠান্ডা পানিতে হাত দিলে সহ্য করা যায় না। তারপরও সংসারের জন্য কাজ থামানো যায় না।’ চা-দোকানি আকাশ হোসেন জানান, ‘শীতে মানুষ কম বের হচ্ছে। তাই এখন আগের মতো ভোরে দোকান খুলছি না।’ চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ৯টায় এ জেলায় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গয়ি সর্বনিম্ন। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।’ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে নেমে গেলে তাকের অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়