১৮ই পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২রা জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নির্বাচন ঘিরে নানা শঙ্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাঙাগড়া, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পদত্যাগ ও বিদ্রোহের ঘটনা প্রবল হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে জোট গঠনের বিষয়টি নতুন নয়। কিন্তু এবারের মেরুকরণে একটি সর্বাত্মক লড়াইয়ের বা মুখোমুখি অবস্থানের যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা অতীতের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।একই সঙ্গে পর্দার আড়ালে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ মুহূর্তে এসে সর্বাধিক আলোচনার বিষয় হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট গঠনের খবরটি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যাঁরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই ভূমিকায় এনসিপির ওপর যাঁরা অনেক বেশি ভরসা করেছিলেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন।
দলের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন, খালেদ সাইফুল্লাহ, এনসিপির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী। পদত্যাগ না করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।পদত্যাগ করেছেন ফেনী-৩ আসনের জন্য মনোনীত দলটির প্রার্থী আবুল কাশেম।জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে দলের ভেতরে আগে থেকেই তীব্র মতভেদ দেখা যায়। গত শনিবার এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। গত ৯ অক্টোবর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী।
তারা যতবার ইতিহাসের মঞ্চে ফিরে আসতে চেয়েছে, ততবারই জনগণের অন্তর থেকে প্রতিধ্বনি উঠেছে। এই দেশকে আর অন্ধকারে ফেরানো যাবে না।’ এনসিপির সিদ্ধান্তে নাগরিক সমাজও হতাশ। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে দলটির যে ভাঙন, তা হতাশাজনক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দল যদি ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন বা লক্ষ্য, তা পূরণ নিয়ে আমরা আশাহত হব। আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সেই তিমিরেই থাকব।’কিছু ছোট দল বা দলের নেতারা নিজেদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। আলোচনায় আছে নির্বাচনের আগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি।অন্যদিকে এখনো নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ আলোচনায় রয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ক্রান্তিকাল’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে বিভ্রান্তি-অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।নির্বাচন নিয়ে মানুষের যেমন আগ্রহ-উৎসাহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা শঙ্কাও। নাজুক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শঙ্কার একটি বড় কারণ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি অপপ্রচার ও সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়