অপূর্ব মৃন্ময়
চলতি শীত মৌসুমে তৃতীয় বারের মতো বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রীতিমতো জবুথবু অবস্থা প্রাণীকূলের। রাতভর হাড়কাঁপানো শীতের পর সকাল থেকে আরো বেশি ঠান্ডায় কাবু মানুষ। যশোরে হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও তারা স্বস্তি পাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রীতিমতো জবুথবু অবস্থা প্রাণীকূলের। রাতভর হাড়কাঁপানো শীতের পর সকাল থেকে আরো বেশি ঠান্ডায় কাবু মানুষ। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় সকালে শীতের তীব্রতা চরমে পৌঁছেছে। তবে, দেরীতে হলেও বৃহস্পতিবার সূর্যের দেখা মিলেছে। সকাল ১০টার পর কুয়াশা কিছুটা কমলেও উত্তরের হিমেলে হাওয়ার কারণে শীতের দাপট খুব বেশি কমেনি। জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ।
গত তিনদিন ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত ২৭ ডিসেম্বর যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ওইদিন ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর গত তিনদিন তাপমাত্রা সামান্য উর্ধ্বমুখী হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা ও উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন গরীব মানুষেরা কোথাও স্বস্তি পাচ্ছে না। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, “যশোরের ওপর দিয়ে এখন মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাসের দাপট। এ দুইয়ে মিলে কাঁপন লেগেছে হাঁড়ে। এর আগে কখনও এবারের মতো কাঁপন ধরানো শীত যশোরে পড়েনি বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।” আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে, আর ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এ তথ্য অনুযায়ী যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। কনকনে শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে হচ্ছে। তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ শতাধিক মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচন্ড শীতে সেই সংখ্যা কমে একশ’র নীচে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে মধ্যে কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। শেখহাটির শ্রমজীবী মোক্তার হোসেন বলেন, “শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। তীব্র শীতে মানুষ তার বাড়ির কাজও করাচ্ছেন না। এ কারণে আয় রোজগারও নেই বললেই চলে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।” এ পরিস্থিতি নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে। প্রচন্ড শীতে সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়া মানুষের কষ্টের সীমা নেই। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে শীতের দাপট আরো বেশি। অনেকে চলমান বোরো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য বাইরে বের হয়ে শীতে কাজ না করতে পেরে ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে কাজের ফাঁকে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এক সপ্তাহ ধরে যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতের দাপট খুব শিগগির কমবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তীব্র শীতের মধ্যে যশোরে একমাত্র রেডক্রিসেন্ট শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও সরকারিভাবে এখনো কোথাও শীতবস্ত্র বিতরণের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

