১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এবং নতুন করে গঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে ও নতুন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। গত তিনটি নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই নির্বাচন।নির্বাচনে ভোটগ্রহণের বাকি আছে মাত্র এক মাস আট দিন। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। বাছাইকালে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা এখন দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য পদে লড়তে দুই হাজার ৫৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে।
মাঠ পর্যায়ে কিছু গুজব আছে। নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কথা বলা হচ্ছে। সরকার ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় কিংবা অনিশ্চয়তা নেই। প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মুহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের ৮০ শতাংশের বেশি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মানুষ ভোটের জন্য মুখিয়ে আছে। এখন আর নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ একেবারেই ভিত্তিহীন।’নির্বাচনসংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলেছে। মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে।এবারই প্রথম লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), ৫২৭ থানার ওসি এবং ১৬৬ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এতে খুশি।নির্বাচনের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের নেতিবাচক ইমেজ কাটিয়ে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ‘মারণাস্ত্রের ব্যবহার’ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, জলকামান বা নন-লেথাল ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন ঘিরে পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।’গত ৩০ ডিসেম্বর শুরু হয় মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া, চলবে আজ রবিবার পর্যন্ত। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুজ্জামান আযাদসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে তাঁরা আপিল করার সুযোগ পাবেন। ঋণখেলাপি, তথ্য গোপন ইত্যাদি কারণ ছাড়াও এ বছর মনোনয়নপত্র বাতিলের অনেক চমকপ্রদ কারণ পাওয়া গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এমন অভিযোগ বেশি। কোথাও প্রার্থী নিজেই নিজের সমর্থক হয়েছেন, কোথাও মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রার্থী এসংক্রান্ত নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেননি।নির্বাচন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।আমরা আশাবাদী, দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ সবচেয়ে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়