প্রতিদিনের ডেস্ক:
সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি, নিয়োগ-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকরের দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি সারাদেশে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা।সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি-শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন।
পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান বলেন, দাবি আদায়ে আমরা সরকারের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আশানুরুপ ফল পাইনি। সরকার ডাকলে আমরা আবারও সাড়া দেবো।কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কর্মবিরতির আগে বেশ কিছু কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে মালিক ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, এতে দেশের লেখক-বুদ্ধিজীবিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ হোটেল-রেস্তোরাঁর শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানাবেন। ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি তিন দিন সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ১২ জানুয়ারি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।আক্তারুজ্জামান খান আরও বলেন, সারাদেশেই সংগ্রাম পরিষদ এসব কর্মসূচি পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হোটেল রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। শুধু ঢাকায় হবে, বিষয়টি এমন নয়। হোটেল-রেস্টুরেন্টের সব শ্রমিকই এ আন্দোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊ র্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতোই হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। খেয়ে না খেয়ে, অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। হোটেল মালিকরা প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদেরকে নামমাত্র মজুরি দিচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫-ধারা অনুযায়ী, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও মালিকরা তা না করে যখন তখন শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করছে। শ্রম আইনে স্বীকৃত ৮ ঘণ্টার অধিক কর্মঘণ্টার জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও মালিকরা জোর করে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা ডিউটি করতে বাধ্য করছে। এছাড়াও শ্রম আইনের অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে মালিকরা শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘গেলো বছরের ৫ মে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।’ এতে আরও বলা হয়, ‘দাবি আদায়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের ইউনিয়নসমূহ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তথাপি সরকার ও মালিক কোনো পক্ষ থেকেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শ্রমিকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।’এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি-শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মনির হোসেন প্রমুখ।

