১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ডাকাত আতংকের সাথে নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে কাঁকড়া আহরণকারী জেলেরা

উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
বছর জুড়েই ছিলো ডাকাত আতঙ্ক এরপর চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার চরম হতাশায় পড়েছেন জেলেরা। বিশেষ করে কাঁকড়া আহরণই যাদের প্রধান জীবিকার উৎস ছিলো তাদের আয় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয় জেলে আনিছুর রহমান জানান, বছরের এই দুই মাস কাঁকড়া প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বন বিভাগ প্রতিবছরই আহরণ বন্ধ রাখে। তবে বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান বা পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় জেলেদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা। অনেকে আবার ধারদেনা করে কোনোভাবে দিন পার করছেন। উপকূল এলাকার একাধিক জেলেরা বলেন, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই আমাদের সংসার চলে। দুই মাস বন বন্ধ থাকলে আয় একেবারেই থাকে না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের কষ্টের কথা কেউ দেখেন না। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন,সারা বছর ডাকাত ভয়ে ঠিক মত বাদা(বন) করতে পারিনি পরানের মদ্ধে ভয় থাকে ধরলে টাকা দেব কি করে তার পর আবার দুই মাস কাঁকড়া ধরা যাবেনা কি যে হবে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে বন বিভাগে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিযাউর রহমান জানিয়েছেন।কাঁকড়ার প্রজনন রক্ষা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে কোনোভাবেই এই সময়ে জেলেদের কাঁকড়া আহরণে বনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নৌ ও স্থল টহলের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান। বন বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক জেলে ভয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের চেষ্টা পর্যন্ত করছেন না।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা বা সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হাওয়ার পর উপকূলে অনিশ্চয়তা হতাশার চিত্র হর হামেশাই দেখা যাচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়