প্রতিদিনের ডেস্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) খুব শিগগিরই ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই তালিকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৬২ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শামি বাদ পড়তে পারেন, এমন গুঞ্জন ইতোমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে শামিকে না অন্তর্ভুক্ত করায় আগেই বিসিসিআই সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও তার নাম বাদ পড়লে বিতর্ক আরও তীব্র হবে। গত মৌসুমে শামি ছিলেন জাতীয় দলের গ্রেড-এ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার। ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন শামি। তবে ফাইনালে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল বোলিংয়ের পর থেকে জাতীয় দলে দেখা যায়নি তাকে। জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার। গত মৌসুমের রঞ্জি ট্রফিতে বেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতেও দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন শামি। চলতি বিজয় হাজারে ট্রফিতেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তিনি। পাঁচটি ম্যাচে প্রতিটিতেই উইকেট নিয়েছেন এবং বেঙ্গলের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারও তার ঝুলিতে। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে হতাশ অনেকেই। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ পর্যন্ত অনেকেরই প্রশ্ন হয়েছে নির্বাচকদের ভূমিকা নিয়ে। বেঙ্গল দলের কোচ লক্ষী রতন শুক্লা স্পষ্টভাবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। রেভস্পোর্টজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচক কমিটি শামির প্রতি অবিচার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শামির চেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে আর কোনো ভারতীয় ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেনি। এত পরিশ্রমের পরও তার সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা হতাশাজনক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা খেলোয়াড়দের জন্য নেতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।’

