নিজস্ব প্রতেবেদক
বেনাপোলের আজগার আলী ওরফে ভোলা ঢাকায় দুটি বিদেশি পিস্তল-ম্যাগজিন ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার হয়েছেন। রাজধানীর শ্যামপুরে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে মহাসড়কে সোহাগ পরিবহন নামে একটি বাসে চেপে তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তার দেহ তল্লাশি করে অস্ত্র-গুলি উদ্ধারে সমর্থ হয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার ঘটনার বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান। গ্রেফতার আজগর আলী ওরফে ভোলার বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল এলাকায়। ডিসি মোস্তফা সরকার জানান, আমাদের লালবাগ ডিভিশনের একটি টিম বিশেষ অভিযানের জন্য চানখারপুর এলাকার অবস্থান করে। ওই সময় আমরা জানতে পারি সোহাগ পরিবহনের বাসে করে ঢাকা একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রবেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুর দেড়টার টার দিকে শ্যামপুর পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে অবস্থান নেয় ডিবি লালবাগ টিম। দুপুর ১ টা ৪০ মিনিটের দিকে বেনাপোল থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসকে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়। মোস্তফা সরকার বলেন, এরপর বাসের সুপারভাইজার হেলপারের সামনে তাদের উপস্থিতিতে আমরা তল্লাশি করি। একপর্যায়ে আমাদের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীর দেহ তল্লাশি করে তার কোমরের একপাশে একটি বিদেশি পিস্তল সিলভার কালারের এবং কালো স্কচ টেপে মোড়ানো দুইটি সিলভার কালারের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তার কোমরের অপর পাশে কালো রঙের পিস্তল এবং প্লাস্টিকের স্কচ টেপে মোড়ানো দুটি কালো রংয়ের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তার হাতে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে কিছু পাওয়া যায়নি। পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে ২১টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ডিসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজগর আলী জানিয়েছেন তার বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল থানার গয়ড়া গ্রামে। তার পিতার নাম কাউসার আলী। এর আগে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ২০২৪ সালে সাভার থানায় বিপুল পরিমান ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হন তিনি। তবে তিনি এই অস্ত্র কোথা থেকে কিনল এবং কার কাছে ঢাকায় বিক্রি করত সেই বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আমরা সব কিছু উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

